খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (Khokababur Pratyabartan) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন (Khokababur Pratyabartan) গল্পের সারসংক্ষেপ, রাইচরণ ও ফেলনার চরিত্র, ভৃত্যের স্নেহ ও শ্রেণির বিষয়, পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
পদ্মার ধারে বিকেলের আলোয় একটি শিশু গাড়িতে বসে কদম ফুল চায়, চাকর ফুল পাড়তে যায়, আর ফিরে এসে দেখে গাড়ি খালি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায়, ১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯১)। ইংরেজিতে My Lord, the Baby নামে পরিচিত।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
রাইচরণ বারো বছর বয়সে অনুকূলবাবুর বাড়িতে চাকর হয়ে আসে, ছোট অনুকূলকে কোলে করে বড়ো করে। অনুকূলের ছেলে খোকাবাবুর ভার পড়ে রাইচরণের ওপর, আর সে শিশুটির সম্পূর্ণ দাস হয়ে যায়। অনুকূল পদ্মাতীরের এক শহরে বদলি হন। এক বর্ষার বিকেলে রাইচরণ খোকাকে গাড়িতে নিয়ে নদীর ধারে বেড়াতে যায়; শিশু কদম ফুল দেখে চায়, রাইচরণ গাছে উঠে ফুল পাড়ে, ফিরে দেখে গাড়ি খালি। খোকার মা রাইচরণকে সন্দেহ করেন, সে শিশুটিকে গয়নার জন্য চুরি করেছে ভাবেন। রাইচরণ গ্রামে ফিরে যায়।
গ্রামে তার স্ত্রী এক ছেলে জন্ম দিয়ে মারা যায়। রাইচরণ প্রথমে ছেলেটিকে ঘৃণা করে, তারপর তার হাঁটা-বলার ভঙ্গিতে খোকাবাবুকে দেখে বিশ্বাস করে, খোকাই ফিরে এসেছে। ছেলের নাম ফেলনা, কিন্তু রাইচরণ তাকে বাবুর মতো বড়ো করে, জমি বেচে খরচ চালায়। ফেলনা তাকে বাবা ডাকে, তবু ভৃত্যের মতো এই বাবাকে নিয়ে লজ্জা পায়। শেষে রাইচরণ ফেলনাকে অনুকূলের কাছে নিয়ে যায়, বলে, সে-ই খোকাকে চুরি করেছিল, এই সেই খোকা। মা আনন্দে ছেলেকে বুকে নেন; অনুকূল মেনে নেন। রাইচরণ সেখানে থাকতে চায়; অনুকূল বলেন, চোরকে বাড়িতে রাখা যায় না, তবে মাসে টাকা পাঠানো হবে। রাইচরণ চলে যায়, আর মাসের শেষে পাঠানো টাকা গ্রামের ঠিকানায় কেউ নেওয়ার না থাকায় ফিরে আসে।
চরিত্র
এক ভৃত্য, দুই শিশু, আর একটি সন্দেহ।
- রাইচরণ: চাকর, দাই, বাবা; স্নেহ ও অপরাধবোধ যার ভিতরে এক হয়ে গেছে।
- ফেলনা: রাইচরণের ছেলে, বাবুর মতো বড়ো, বাবাকে নিয়ে লজ্জিত, শেষে নতুন পরিচয়ে অনায়াসে ঢুকে যায়।
- অনুকূল: মনিব, ন্যায়বান কিন্তু শ্রেণির চোখে দেখা মানুষ।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: ভৃত্যের নিঃস্বার্থ স্নেহ, শ্রেণিভেদ, অপরাধবোধ ও প্রায়শ্চিত্ত, পিতৃত্বের ত্যাগ। ধারালো পর্যবেক্ষণ: রাইচরণের মিথ্যা স্বীকারোক্তিই গল্পের কেন্দ্র। খোকাকে সে চুরি করেনি, তবু চোর বলে নিজেকে ঘোষণা করে, কারণ সেটিই একমাত্র পথ যাতে ফেলনা ভদ্র ঘরে ঢুকতে পারে। নিজের ছেলেকে সে অন্যের ছেলে বলে দান করে, আর সেই দানের দাম চোরের কলঙ্ক। লেখক এখানে শ্রেণিকে দেখান স্নেহের ভিতরেও: ফেলনার লজ্জা, অনুকূলের মাসিক টাকা, দুটোই বলে ভৃত্যের প্রেম পাওয়া যায়, তার সমান হওয়া যায় না।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
মোড়টি রাইচরণের বিশ্বাস, নবজাতক ছেলেটিই খোকা। এটি অলৌকিক নয়, মনস্তাত্ত্বিক, আর লেখক তা প্রমাণ করেন না, শুধু রাইচরণের চোখ দিয়ে দেখান। সেখান থেকে গল্প দুই সত্যের মধ্যে চলে: পাঠকের কাছে ফেলনা রাইচরণের ছেলে, রাইচরণের কাছে খোকা। শেখার বিষয় শেষের বস্তু: একটি ফেরত আসা মানি অর্ডার। লেখক রাইচরণের মৃত্যু বা অন্তর্ধান লেখেন না, একটি ডাকঘরের কাগজ লেখেন, আর সেই কাগজ সব বলে দেয়। এমন এক নির্লিপ্ত বস্তুতে শেষ করা Writory-র ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় আবেগের নম্বরে অশ্রুর দৃশ্যের চেয়ে বেশি কাজ করে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
- শব্দার্থ: প্রত্যাবর্তন (ফিরে আসা); ভৃত্য (চাকর); কদম (বর্ষার ফুল); প্রায়শ্চিত্ত (পাপ খণ্ডন); মানি অর্ডার (ডাকযোগে টাকা পাঠানো); কলঙ্ক (অপবাদ); নির্লিপ্ত (আবেগহীন)।
- চরিত্রচিত্রণ, রাইচরণ (৬০ শব্দে): রাইচরণ বারো বছর বয়স থেকে অনুকূলের ভৃত্য, দুই প্রজন্মের শিশুকে কোলে বড়ো করা মানুষ। খোকা হারানোর দায় ও চুরির সন্দেহ তার জীবন ভেঙে দেয়। নিজের ছেলে ফেলনাকে সে খোকার প্রত্যাবর্তন বিশ্বাস করে বাবুর মতো বড়ো করে, সর্বস্ব খরচ করে। শেষে চোরের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে ছেলেকে মনিবের ঘরে দিয়ে নিঃশব্দে চলে যায়। নিঃস্বার্থ ও অপরাধবোধে দগ্ধ।
- প্রশ্ন: রাইচরণ নিজেকে চোর বলে কেন? উত্তর: ফেলনাকে ভদ্র ঘরে ঢোকানোর এটিই একমাত্র পথ। নিজের কলঙ্ক ছেলের ভবিষ্যতের দাম।
- প্রশ্ন: ফেরত আসা টাকার অর্থ কী? উত্তর: রাইচরণ আর নেই, গ্রামে বা জীবনে। লেখক মৃত্যু না লিখে বস্তু দিয়ে বলেন।
- প্রশ্ন: শিরোনামের অর্থ কী? উত্তর: রাইচরণের বিশ্বাসে খোকা ফিরে এসেছে ফেলনা রূপে; শেষে সে সত্যিই মনিবের ঘরে ফেরে।
- সারাংশ (১০০ শব্দে): ভৃত্য রাইচরণ মনিব অনুকূলের শিশু খোকাবাবুকে প্রাণ দিয়ে দেখে। পদ্মার ধারে কদম ফুল পাড়তে গিয়ে সে ফিরে দেখে খোকা নেই, নদীতে হারিয়েছে। খোকার মা তাকে চোর সন্দেহ করেন; সে গ্রামে ফেরে। স্ত্রী এক ছেলে জন্ম দিয়ে মরলে রাইচরণ বিশ্বাস করে খোকাই ফিরেছে, ছেলে ফেলনাকে বাবুর মতো বড়ো করে সর্বস্ব খরচ করে। ফেলনা বাবাকে নিয়ে লজ্জা পায়। রাইচরণ তাকে অনুকূলের কাছে নিয়ে গিয়ে নিজেকে চোর বলে ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়। মা গ্রহণ করেন, অনুকূল তাকে বিদায় দেন মাসিক টাকার প্রতিশ্রুতিতে। টাকা ফেরত আসে; রাইচরণ নেই।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় মিথ্যা স্বীকারোক্তিকে গল্পের কেন্দ্র হিসেবে লিখুন।
- শেষের মানি অর্ডারকে প্রতীকী বস্তু হিসেবে ব্যাখ্যা করুন।
- ফেলনার লজ্জা ও অনুকূলের মাসিক টাকা দিয়ে শ্রেণির বিষয় দেখান।
- নিজের গল্পে চরিত্রের বিশ্বাসকে প্রমাণ না করে শুধু তার চোখে দেখান।
- মৃত্যু বা বিদায় লিখতে একটি নির্লিপ্ত বস্তু ব্যবহার করুন।
Try it yourself
এমন এক মানুষের গল্প লিখুন যে একটি অপরাধ করেনি, তবু নিজেকে অপরাধী ঘোষণা করে, কারণ সেটিই প্রিয় কাউকে বাঁচানোর একমাত্র পথ। শেষ করুন একটি ফেরত আসা চিঠি, অব্যবহৃত টিকিট বা না-খোলা প্যাকেটে।
Questions
খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন গল্পের শেষে কী হয়?
রাইচরণ নিজেকে চোর বলে ফেলনাকে অনুকূলের ঘরে ফিরিয়ে দেয়। তাকে থাকতে দেওয়া হয় না, মাসিক টাকা পাঠানোর কথা হয়। টাকা গ্রামে কেউ না নেওয়ায় ফেরত আসে; রাইচরণের আর খোঁজ মেলে না।
ফেলনা কি সত্যিই খোকাবাবু?
না, ফেলনা রাইচরণের নিজের ছেলে। শোক ও অপরাধবোধে রাইচরণ বিশ্বাস করে খোকা ফিরে এসেছে, আর লেখক সেই বিশ্বাসকে তার চোখ দিয়েই দেখান।
গল্পের ইংরেজি নাম কী?
My Lord, the Baby। ইংরেজি পাতাটি এই লাইব্রেরিতে আলাদা আছে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 30 November. That first entry makes you a Writorian.