পোস্টমাস্টার (Postmaster) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টার (Postmaster) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, রতন ও দাদাবাবুর চরিত্র, একাকিত্ব ও শ্রেণির বিষয়, দুই ভাগে ভাঙা শেষের শিল্প।
কলকাতার এক যুবক উলাপুর গ্রামের অন্ধকার ডাকঘরে চাকরি নিয়ে আসে, কাজের মেয়ে অনাথ রতনকে অক্ষর শেখায়, তারপর তাকে ফেলে চলে যায়। এই কয়েকটি শান্ত ঘটনা থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন গল্প লেখেন যা পড়ে আজও পাঠক থমকে যায়। পোস্টমাস্টার লেখা ১৮৯১ সালে, হিতবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত। কোনো অপরাধ নেই, কোনো চমক নেই; সমস্ত শক্তি শেষ পৃষ্ঠায়, যেখানে লেখক শেষটিকে দু-টুকরো করে পুরুষটিকে তার দর্শন ও মেয়েটিকে তার আশা দিয়ে দেন।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
পোস্টমাস্টার কলকাতার ছেলে, উলাপুরের মতো অজ গ্রামে তার দম আটকে আসে। ডাকঘরটি টিনের ছাউনির নীচে, পাশে শ্যাওলা-ধরা পুকুর, চারদিকে জঙ্গল। ঘরের কাজ করে বারো-তেরো বছরের অনাথ রতন। সন্ধ্যায় সে দরজার পাশে বসে দাদাবাবুর মা-দিদির গল্প শোনে, আর সেই অদেখা পরিবার তার নিজের হয়ে ওঠে। সময় কাটাতে পোস্টমাস্টার তাকে পড়ায়; রতন স্বরবর্ণ থেকে যুক্তাক্ষরে পৌঁছে যায়, কারণ কেউ তাকে আগে কিছু দেয়নি।
শ্রাবণে পোস্টমাস্টার জ্বরে পড়ে, রতন ছোট্ট মায়ের মতো তাকে সেবা করে। সেরে উঠে সে বদলির দরখাস্ত করে, নাকচ হলে ইস্তফা দেয়। রতন জানতে চায়, দাদাবাবু, আমাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে? পোস্টমাস্টার হেসে বলে, সে কী করে হয়। এই হাসিটি মেয়েটির কানে সারারাত বাজে। যাবার সকালে সে মাইনের প্রায় সব টাকা দিতে চায়; রতন মাটিতে পড়ে বলে, আমাকে কিছু দিতে হবে না, আর দৌড়ে পালায়। নৌকা ভরা নদীতে ভাসে, পোস্টমাস্টারের বুকে একবার ফেরার টান ওঠে, কিন্তু পাল ফুলে ওঠে, আর সে দার্শনিক সান্ত্বনায় মন বোঝায়: জীবনে বিচ্ছেদ কত, ফিরে গিয়ে লাভ কী। রতনের কোনো দর্শন নেই। সে ডাকঘরের চারপাশে ঘুরে ঘুরে কাঁদে, ভাবে দাদাবাবু ফিরবেন, আর নতুন পোস্টমাস্টার কাজে বসেন।
চরিত্র
দুটি মানুষ ও তাদের মাঝের ফাঁকটুকুই গল্পের পুরো কুশীলব।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলি দাঁড়ায়: একাকিত্ব থেকে জন্মানো অসম সম্পর্ক; শ্রেণির অদৃশ্য রেখা, যা ভদ্রলোককে বাড়ি ফিরতে দেয় আর অনাথকে আসবাবের মতো রেখে যায়। অক্ষর শেখানো ক্ষুদ্র আকারে শ্রেণির গল্প বহন করে: সে একঘেয়েমি মারতে পড়ায়, রতন তা ভালোবাসা হিসেবে নেয়, দুজনেই একই সন্ধ্যা নিয়ে সত্যি বলছে। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পে কোনো খল নেই। পোস্টমাস্টার মিথ্যা বলে না, শেষে মাইনে দিতে চাওয়ার মতো উদার কাজও করে। ক্ষতিটি হয় শুধু অমনোযোগে, তার সাধারণ ভদ্রতা এমন জীবনে কতটা ভার ফেলছে যেখানে পাল্লার অন্য দিকে কিছুই নেই, সেটি না ভাবায়। লক্ষ্য নিষ্ঠুরতা নয়, অসাবধানতা।
গল্পের শিল্প: দুই ভাগে ভাঙা শেষ
লেখক দুবার শেষ করেন, প্রত্যেক চরিত্রের জন্য একবার। পোস্টমাস্টার পায় গতি, নৌকা, ফুলে ওঠা পাল, দর্শনের অবশ করা ওষুধ। রতন পায় স্থিরতা, একটি চালাঘরের চারপাশে ঘোরা। দুই চেতনা পাশাপাশি, মিলিয়ে না দিয়েই লেখক পুরুষটির সান্ত্বনার বিচার করেন, একটিও মন্তব্য ছাড়া। মোড়টি ইস্তফা নয়, বিদায় নয়; রতন সঙ্গে যেতে চাইলে সেই হাসি। প্রস্তাবটি বিচার্য বিষয়ের ঘরেই ঢোকে না।
পরীক্ষার জন্য
দু-লাইনের প্রশ্নে সরাসরি বসানোর মতো উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় মেজাজ নয়, গঠনের কথা লিখুন: নৌকায় দর্শন বনাম ডাকঘরের চারপাশে ঘোরা।
- হাসিকে মোড় হিসেবে চিহ্নিত করুন এবং বলুন এটি কী প্রকাশ করে।
- শ্রেণির বিষয়ে অক্ষর শেখানোর দৃশ্য ব্যবহার করুন; একই সন্ধ্যা একজনের সময় কাটানো, অন্যজনের পরিবার।
- নিজের গল্পে ক্ষতিটা অমনোযোগ দিয়ে ঘটান; অসাবধান চরিত্র বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
- দুই শেষের কৌশল চেষ্টা করুন: যে যেতে পারে তার জন্য একবার, যে থাকে তার জন্য একবার।
Try it yourself
একজন অস্থায়ী মানুষ, বদলি শিক্ষক, ছ-মাসের ভাড়াটে বা লোকাম ডাক্তার, না বুঝেই কারও জগতের কেন্দ্র হয়ে ওঠে, এমন গল্প লিখুন। দুবার শেষ করুন: একবার যে চলে যায় তার মনের ভিতরে, একবার যে থেকে যায় তার পাশে।
Questions
পোস্টমাস্টার গল্পের শেষে কী হয়?
পোস্টমাস্টার ইস্তফা দিয়ে নৌকায় বাড়ি ফেরে, বিচ্ছেদ জীবনের নিয়ম ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দেয়। রতন তার টাকা নেয় না এবং দাদাবাবু ফিরবেন এই আশায় ডাকঘরের চারপাশে ঘুরে কাঁদে।
রতন সঙ্গে যেতে চাইলে পোস্টমাস্টার কেন হাসে?
তার কাছে কথাটি অসম্ভব, বিচার করার মতোও নয়। এই হাসিই গল্পের ক্ষত, কারণ এতে রতন বোঝে যে পরিবারটি শুধু তার দিক থেকেই ছিল।
পোস্টমাস্টার গল্পের মূল বিষয় কী?
অসম সম্পর্ক: নির্জনতা এক ভদ্রলোক ও এক অনাথকে কাছে আনে, কিন্তু সম্পর্কটি একজনের কাছে বিনোদন, অন্যজনের কাছে সব। লক্ষ্য নিষ্ঠুরতা নয়, অসাবধানতা।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.