ইচ্ছাপূরণ (Ichchhapuran) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের ইচ্ছাপূরণ (Ichchhapuran) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, সুবলচন্দ্র ও সুশীলচন্দ্রের চরিত্র, বয়স বদলের কৌতুক, শিক্ষার বিষয় এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
একটি ছেলে চায় বাবার মতো বড়ো হতে, যাতে পড়া না করলেও কেউ বকে না, আর বাবা চান ছেলের মতো ছোট হতে, যাতে আবার ভালো করে পড়া যায়; ইচ্ছাঠাকরুন দুজনের ইচ্ছাই এক রাতে পূরণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইচ্ছাপূরণ ১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৫) লেখা, ছোটদের জন্য, আর তবু বড়োরা এতে নিজেদের বেশি দেখতে পান।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
সুবলচন্দ্রের ছেলে সুশীলচন্দ্র নামের মতো সুশীল নয়। এক শনিবার স্কুল ফাঁকি দিতে সে পেটব্যথার ভান করে, কিন্তু বাবা ধরে ফেলেন, ঘরে বন্ধ করে রাখেন, আর ওষুধ খাওয়ান। সুশীল রাগে ভাবে, বাবার মতো বড়ো হলে স্বাধীন হওয়া যেত। সুবলচন্দ্রও ভাবেন, ছোটবেলায় তিনি পড়েননি, আবার ছোট হলে মন দিয়ে পড়তেন। ইচ্ছাঠাকরুন দুজনের মনের কথা শুনে দুজনের ইচ্ছা পূরণ করেন। সকালে সুবলচন্দ্র সাত বছরের ছেলে, সুশীলচন্দ্র বুড়ো মানুষ। প্রথমে দুজনেই খুশি।
বিপত্তি শুরু হয় দ্রুত। বুড়ো সুশীল খেলতে চায়, গাছে উঠতে চায়, কিন্তু দাঁত নেই, হাঁটু ব্যথা, চশমা ছাড়া দেখা যায় না; সঙ্গীরা তাকে দাদামশাই বলে দূরে থাকে। ছোট সুবলচন্দ্র পড়তে বসতে চান, কিন্তু ছেলেমানুষের মন খেলার দিকে ছোটে, আর তাঁর সমবয়সী পুরোনো বন্ধুরা এখন তাঁকে হাঁটুর বয়সী ভেবে কোলে তোলে। বুড়ো সুশীল বাবার শাসন করতে গিয়ে নিজেই বিব্রত, ছোট বাবা ছেলের কথা শুনতে বাধ্য হয়ে অপমানিত। দুজনেই বোঝে, নিজের বয়স ছাড়া অন্য বয়সের আনন্দ নিজের কাছে আসে না। দুজনে ইচ্ছাঠাকরুনের কাছে আগের অবস্থা ফেরত চায়। তিনি ফেরত দেন। সকালে সুশীল আবার স্কুলে যায়, সুবলচন্দ্র আবার বাবা, আর দুজনেই আগের চেয়ে একটু বেশি বুঝদার।
চরিত্র
বাবা, ছেলে, আর একজন দেবী যিনি শিক্ষা দেন কৌতুকে।
- সুশীলচন্দ্র: দুরন্ত, পড়ায় অনিচ্ছুক, স্বাধীনতাকে বয়স ভাবে।
- সুবলচন্দ্র: কড়া বাবা, অতীতের অনুশোচনায় ফেরার স্বপ্ন দেখেন।
- ইচ্ছাঠাকরুন: ইচ্ছাপূরণের দেবী, শাস্তি দেন না, ইচ্ছা পূরণ করেই শেখান।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: প্রত্যেক বয়সের নিজের আনন্দ ও দায়, অন্যের অবস্থানে না গিয়ে তাকে বোঝার অসম্ভবতা, ইচ্ছার পূরণে ইচ্ছার ফাঁপা রূপ প্রকাশ। শিশুপাঠ্য কৌতুক হিসেবে পড়া হয়, কিন্তু ধারালো পর্যবেক্ষণটি এই: গল্পটি বাবার শাসনের সমালোচনাও। সুবলচন্দ্র ছোট হয়ে বোঝেন, শিশুর মন পড়ায় বসতে চায় না, তা তার স্বভাব, দোষ নয়; ছেলের ওপর তাঁর কড়াকড়ি তাই আর আগের মতো থাকে না। ইচ্ছাঠাকরুন শিশুকে যতটা শেখান, বাবাকে ততটাই। শিরোনামের কৌতুক লক্ষ করুন: ইচ্ছা পূরণ হয়, আর তাতেই ইচ্ছার অসারতা ধরা পড়ে।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
দুই ইচ্ছাকে আয়নার মতো মুখোমুখি রাখা এখানে মূল কৌশল: বাবা যা চান, ছেলে তার উলটো, আর দুটি পূরণ একই মুহূর্তে হয়। মোড় বসে ইচ্ছাপূরণের সকালে, তারপর গল্প দুই সমান্তরাল বিপর্যয়ে এগোয়, প্রত্যেকটি অন্যটির প্রতিধ্বনি। শেখার বিষয়: হাসির গল্পে প্রত্যেক কৌতুক একটি চরিত্রের ভুল ধারণা থেকে জন্মায়। বুড়ো সুশীলের গাছে ওঠার চেষ্টা হাসি আনে কারণ তার ধারণা ভুল, না শরীর। ভুল ধারণাকে শরীরী পরিস্থিতিতে ফেলুন, কৌতুক নিজে থেকে আসবে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
- শব্দার্থ: ইচ্ছাপূরণ (মনোবাঞ্ছা সিদ্ধি); ঠাকরুন (দেবী, সম্মানিত নারী); ভান (মিথ্যা অভিনয়); শাসন (নিয়ন্ত্রণ, বকুনি); অনুশোচনা (পস্তানো); সমান্তরাল (পাশাপাশি চলা)।
- চরিত্রচিত্রণ, সুশীলচন্দ্র (৬০ শব্দে): সুশীলচন্দ্র সুবলচন্দ্রের ছেলে, পড়ায় ফাঁকিবাজ, খেলায় দুরন্ত। স্কুল এড়াতে অসুখের ভান করে ধরা পড়ে। বাবার শাসনকে সে অত্যাচার ভাবে, বড়ো হওয়াকে মুক্তি। ইচ্ছাঠাকরুনের বরে বুড়ো হয়ে সে দেখে, বয়স স্বাধীনতা নয়, দুর্বল শরীর ও একাকিত্বও। ফিরে এসে সে আগের ছেলেটিই থাকে, তবে বাবার শাসনকে নতুন চোখে দেখে। চঞ্চল, সরল, শিক্ষাগ্রহণে সক্ষম।
- প্রশ্ন: দুজনের ইচ্ছা কী? উত্তর: ছেলে বড়ো হতে চায় স্বাধীনতার জন্য, বাবা ছোট হতে চান পড়ার জন্য। দুটিই পূরণ হয়।
- প্রশ্ন: ইচ্ছাপূরণে কী শিক্ষা মেলে? উত্তর: প্রত্যেক বয়সের নিজের আনন্দ ও সীমা। অন্যের জায়গায় গিয়ে নিজের জায়গার দাম বোঝা যায়।
- প্রশ্ন: গল্পটি বাবাকে কী শেখায়? উত্তর: শিশুর মন খেলার দিকে যাওয়া স্বভাব, দোষ নয়। তাঁর শাসন নরম হয়।
- সারাংশ (১০০ শব্দে): সুশীলচন্দ্র স্কুল ফাঁকি দিতে পেটব্যথার ভান করে বাবা সুবলচন্দ্রের হাতে ধরা পড়ে। ছেলে চায় বাবার মতো বড়ো হয়ে স্বাধীন হতে, বাবা চান ছোট হয়ে আবার পড়তে। ইচ্ছাঠাকরুন দুজনের ইচ্ছা পূরণ করেন। বুড়ো সুশীল খেলতে গিয়ে দুর্বল শরীরে ব্যর্থ, সঙ্গীরা দূরে সরে; ছোট সুবলচন্দ্র পড়তে বসতে চেয়েও খেলায় ছুটে যান, বন্ধুরা তাঁকে কোলে তোলে। দুজনেই বোঝে নিজের বয়সই ভালো। তারা আগের অবস্থা ফেরত চায়, ইচ্ছাঠাকরুন ফিরিয়ে দেন। দুজনেই আগের চেয়ে বুঝদার হয়ে জীবনে ফেরে।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় দুই ইচ্ছার বৈপরীত্য ও তার সমান্তরাল পরিণতি লিখুন।
- শিক্ষা শুধু ছেলের নয়, বাবারও; এই দিকটি বাড়তি নম্বর দেয়।
- শিরোনামের বিদ্রুপ ব্যাখ্যা করুন: পূরণেই ইচ্ছার অসারতা।
- নিজের হাসির গল্পে কৌতুক চরিত্রের ভুল ধারণা থেকে আনুন।
- দুই চরিত্রের ইচ্ছা আয়নার মতো বিপরীত রাখুন।
Try it yourself
দুই মানুষের গল্প লিখুন যারা পরস্পরের জীবন চায়, একজন কর্মী ও তার মালিক, একজন শহরের ও একজন গ্রামের। এক সকালে বদল ঘটুক। প্রত্যেকের বিপর্যয় অন্যজনের প্রতিধ্বনি হোক, আর শেষে দুজনেই নিজের জীবন ফেরত চাক, তবে একটি নতুন বোধ নিয়ে।
Questions
ইচ্ছাপূরণ গল্পের শেষে কী হয়?
বয়স বদলে দুজনেই বিপদে পড়ে বোঝে নিজের বয়সই ঠিক। তারা ইচ্ছাঠাকরুনের কাছে আগের অবস্থা ফেরত চায়, তিনি ফিরিয়ে দেন, আর দুজনেই আগের চেয়ে বুঝদার হয়।
ইচ্ছাপূরণ গল্পের শিক্ষা কী?
প্রত্যেক বয়সের নিজের আনন্দ ও দায় আছে; অন্যের অবস্থানে গেলে নিজের অবস্থানের দাম বোঝা যায়। বাবার জন্যও শিক্ষা: শিশুর চঞ্চলতা দোষ নয়।
ইচ্ছাপূরণ কাদের জন্য লেখা?
মূলত ছোটদের জন্য, ১৩০২ বঙ্গাব্দে, কিন্তু বাবা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে বড়োদের জন্যও এতে বক্তব্য আছে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 30 November. That first entry makes you a Writorian.