মধ্যবর্তিনী (Madhyabartini) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের মধ্যবর্তিনী (Madhyabartini) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, হরসুন্দরী, নিবারণ ও শৈলবালার চরিত্র, দ্বিতীয় বিবাহের বিষয়, শিরোনামের অর্থ এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
অসুখের বিছানায় শুয়ে এক নিঃসন্তান স্ত্রী নিজেই স্বামীকে বলে, আবার বিয়ে করো, আর সেই কথাটি তার সংসারের মাঝখানে একটি তৃতীয় মানুষ বসিয়ে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মধ্যবর্তিনী প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দে (১৮৯৩)। কেরানি নিবারণের সংসারের এই গল্প বাংলা সাহিত্যে সহবিবাহের সবচেয়ে সংযত ও নির্মম ছবি।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
নিবারণ অফিসের কেরানি, স্ত্রী হরসুন্দরী, দুজনের সংসার শান্ত, অভ্যাসের মতো, ভালোবাসার কথা বলার দরকার হয় না। সন্তান নেই। হরসুন্দরী কঠিন অসুখে পড়ে, আর বিছানায় শুয়ে তার মনে হয় সে স্বামীকে যথেষ্ট দেয়নি, সন্তান দিতে পারেনি। সেরে উঠে সে নিবারণকে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য চাপ দেয়। নিবারণ প্রথমে হেসে উড়িয়ে দেয়, রাগ করে, তারপর একদিন রাজি হয়। বালিকা শৈলবালার সঙ্গে বিয়ে হয়। হরসুন্দরী নিজে বালিকাবধূকে সাজায়, মায়ের মতো স্নেহ করে।
শৈলবালা ছেলেমানুষ, ঘরের কাজ জানে না, আবদার জানে। নিবারণ ক্রমশ তার প্রতি মুগ্ধ হয়ে পড়ে; অফিস থেকে ফিরে তার ঘরে সময় কাটায়, তার ছোট ছোট চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত হয়। হরসুন্দরী দেখে, যে ভালোবাসা তার সংসারে কোনোদিন উচ্চারিত হয়নি, সেটি স্বামী এই বালিকার জন্য নতুন করে আবিষ্কার করেছে। সে সরে যায় পাশের ঘরে, একটি ছায়ার মতো। শৈলবালার গয়না ও শৌখিন আবদারে নিবারণের খরচ বাড়ে; সে অফিসের তহবিল থেকে টাকা নেয়। ধরা পড়ার ভয়ে সে ভেঙে পড়লে হরসুন্দরী নিজের সমস্ত গয়না দিয়ে ঋণ শোধ করে, নীরবে। শৈলবালা অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং সন্তান প্রসবের সময় সন্তানসহ মারা যায়। সংসারে আবার দুজন, নিবারণ ও হরসুন্দরী। কিন্তু মাঝখানে বসে আছে একটি মৃত বালিকার স্মৃতি, আর আগের সেই সরল সম্পর্ক ফিরে আসে না। মধ্যবর্তিনী মরে গিয়েও মাঝখানে থেকে যায়।
চরিত্র
তিনজন, আর তিনটি ভিন্ন দুঃখ।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: সহবিবাহ ও বালিকাবিবাহের কুফল, নারীর আত্মত্যাগ ও তার মূল্য, অভ্যাসের সংসারে প্রেমের অনুপস্থিতি। শিরোনামের অর্থ লিখবেন: মধ্যবর্তিনী, যে মাঝখানে থাকে, জীবিত ও মৃত দুই অবস্থায়। ধারালো পর্যবেক্ষণ: হরসুন্দরীর ত্যাগ শুভ, তার ফল অশুভ, আর লেখক এই দুটিকে আলাদা করেন না। সংসারে ভালোবাসা ছিল না, ছিল অভ্যাস; শৈলবালা এসে নিবারণকে দেখায় ভালোবাসা কী, আর সেই জ্ঞান হরসুন্দরীর কাছে সবচেয়ে বড়ো আঘাত, কারণ সে বোঝে বিশ বছরে সে কী পায়নি। গল্পের নিষ্ঠুরতা কারও দোষে নয়, একটি ভালো ইচ্ছার যুক্তিসিদ্ধ পরিণতিতে।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
মোড়টি হরসুন্দরীর প্রস্তাব, গল্পের শুরুতেই, আর বাকি গল্প সেই প্রস্তাবের ফল অনুসরণ করে অনিবার্যতার সুরে। শেখার বিষয়: লেখক শৈলবালাকে খল করেন না, তার ছেলেমানুষি নিরীহ, আর সেই নিরীহতাই হরসুন্দরীর কষ্টকে অসহ্য করে, কারণ রাগ করার কেউ নেই। দ্বিতীয় শেখার বিষয় শেষের নেতিবাচক গঠন: মৃত্যুতে সংসার আগের অবস্থায় ফেরে, তবু ফেরে না। একই ঘর, একই দুজন, ভিতরে একটি অনুপস্থিতি। যে গল্প শেষে সবকিছু আগের জায়গায় রেখে সবকিছু বদলে দেয়, Writory-র ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় সে গল্প গঠনের নম্বরে সবচেয়ে বেশি মনে থাকে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শিরোনামের দুই অবস্থার অর্থ লিখুন, জীবিত ও মৃত মধ্যবর্তিনী।
- হরসুন্দরীর ত্যাগ ও তার পরিণতির বৈপরীত্য তুলুন।
- গল্পে খল না থাকার কথা লিখুন; এটি লেখকের কৌশল।
- নিজের গল্পে প্রস্তাবটি শুরুতে রাখুন, বাকি গল্প তার অনিবার্য ফল হোক।
- শেষে সবকিছু আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিন, তবু বদলে দিন।
Try it yourself
এমন গল্প লিখুন যেখানে একজন প্রিয় মানুষের জন্য একটি বড়ো ত্যাগ করে, আর সেই ত্যাগই তাকে দেখায় তার সম্পর্কে কী কোনোদিন ছিল না। তৃতীয় মানুষটিকে নিরীহ রাখুন। শেষে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরুক, শুধু একটি অনুপস্থিতি ছাড়া।
Questions
মধ্যবর্তিনী গল্পের শেষে কী হয়?
শৈলবালা সন্তান প্রসবের সময় সন্তানসহ মারা যায়। নিবারণ ও হরসুন্দরী আবার দুজন, কিন্তু মৃত বালিকার স্মৃতি মাঝখানে থেকে যায় এবং পুরোনো সম্পর্ক আর ফেরে না।
মধ্যবর্তিনী শব্দের অর্থ কী?
যে মাঝখানে থাকে। শৈলবালা জীবিত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে ছিল, মৃত্যুর পরেও স্মৃতি হয়ে মাঝখানেই থাকে।
মধ্যবর্তিনী গল্পের মূল বিষয় কী?
সহবিবাহের কুফল, নারীর আত্মত্যাগের মূল্য, আর অভ্যাসের সংসারে প্রেমের অনুপস্থিতি যা তৃতীয় মানুষের আগমনে প্রকাশ পায়।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.