জীবিত ও মৃত (Jibito o Mrito) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের জীবিত ও মৃত (Jibito o Mrito) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কাদম্বিনীর চরিত্র, বিধবার সামাজিক মৃত্যুর বিষয়, বিখ্যাত শেষ বাক্য এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
বৃষ্টির রাতে শ্মশানে একটি মৃতদেহ চোখ খোলে, চারপাশে কেউ নেই, আর মেয়েটি ধরে নেয় সে মরে গেছে ও এখন প্রেত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবিত ও মৃত প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায়, ১২৯৯ বঙ্গাব্দে (১৮৯২)। ইংরেজিতে Living or Dead নামে পরিচিত। গল্পের শেষ বাক্যটি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে উদ্ধৃত পঙ্ক্তিগুলির একটি।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
রানীহাটের জমিদার শারদাশঙ্করের বাড়িতে থাকে তাঁর ভাইয়ের বিধবা কাদম্বিনী, নিঃসন্তান, যার একমাত্র স্নেহের পাত্র শারদাশঙ্করের ছোট ছেলে। এক রাতে কাদম্বিনীর হৃৎস্পন্দন থেমে যায়, সবাই ধরে নেয় সে মৃত। জমিদারের চার ব্রাহ্মণ কর্মচারী রাতেই দেহ শ্মশানে নিয়ে যায়, বৃষ্টি নামে, তারা কাঠ ও আগুনের ব্যবস্থা করতে গ্রামে ফিরে যায়। একা পড়ে থাকা কাদম্বিনী জেগে ওঠে। অন্ধকার শ্মশানে, চিতার পাশে, সে ধরে নেয় সে মরেছে এবং এখন তার শরীরটি ছায়ামাত্র। সে যায় বাল্যসখী যোগমায়ার বাড়ি, নিশ্চিন্দিপুরে।
যোগমায়া ও তার স্বামী শ্রীপতি তাকে আশ্রয় দেয়, কিন্তু কাদম্বিনীর আচরণ অস্বাভাবিক: সে কারও স্পর্শ এড়ায়, নিজেকে সংসারের বাইরের কেউ মনে করে। যোগমায়া ক্রমশ সন্দিগ্ধ ও ঈর্ষান্বিত হয়। শ্রীপতি রানীহাটে খোঁজ নিয়ে জানে, কাদম্বিনী মাসখানেক আগে মারা গেছে। বাড়িতে সেই কথা উঠলে কাদম্বিনী চেঁচিয়ে বলে, সে মরেনি, আর যোগমায়ার আতঙ্কের মুখে সে পালায়। রানীহাটে ফিরে এসে সে ছেলেটিকে দেখতে যায়; বাড়িতে হুলুস্থুল, সবাই তাকে প্রেত ভাবে, ছেলেটি ভয়ে কাঁদে। কাদম্বিনী নিজের হাত কেটে রক্ত দেখায়, বলে সে বেঁচে আছে, কেউ বিশ্বাস করে না। শেষে সে বাড়ির পুকুরে ঝাঁপ দেয়। লেখক লেখেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই।
চরিত্র
এক বিধবা, আর তাকে ঘিরে থাকা ভয়।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: হিন্দু বিধবার সামাজিক মৃত্যু, সংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের নিষ্ঠুরতা, জীবিত ও মৃতের সীমা যেখানে সমাজ ঠিক করে, শরীর নয়। শেষ বাক্যের বিদ্রুপ অবশ্যই লিখবেন। ধারালো পর্যবেক্ষণ: কাদম্বিনী শ্মশানে জেগে যা ভাবে, তা ভুল নয়, শুধু আগে বলা। বিধবা হিসেবে সে সংসারে আগে থেকেই ছায়া ছিল, স্নেহ দেওয়ার অধিকার তার, পাওয়ার নয়। মৃত্যুর ভ্রম তার অবস্থানটিকে শুধু নাম দেয়। লেখক তাই ভূতের গল্পের সব উপকরণ নিয়ে একটি সামাজিক গল্প লেখেন, যেখানে ভূত হওয়ার আগেই মেয়েটি ভূত ছিল।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
গল্পটি ভূতের গল্পের সমস্ত সংকেত দেয়, শ্মশান, বৃষ্টি, রাতের যাত্রা, তারপর প্রত্যেক সংকেতকে সামাজিক অর্থে ঘুরিয়ে দেয়। মোড়টি শ্রীপতির খবর আনা, যেখানে যুক্তি ও সত্যানুসন্ধান, যা সাধারণত মুক্তি দেয়, এখানে মৃত্যুদণ্ড হয়ে ওঠে। শেখার বিষয় শেষ বাক্যের গঠন: একটি লাইনে বিরোধী দুই শব্দ, মরিয়া ও মরে নাই, পাশাপাশি বসিয়ে লেখক গল্পের গোটা যুক্তি একটি বিদ্রুপে সংকুচিত করেন। এমন একটি শেষ বাক্য যা পুরো গল্পের সারাংশ ও রায় দুটোই, তা যে কোনো ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় বিচারকের মনে সবচেয়ে বেশি দিন থাকে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শেষ বাক্যটি উদ্ধৃত করে তার বিদ্রুপ ব্যাখ্যা করুন।
- বিধবার সামাজিক মৃত্যুকে গল্পের আসল বিষয় হিসেবে লিখুন, ভূতকে নয়।
- শ্রীপতির যুক্তিবাদকে মোড় হিসেবে দেখান।
- নিজের লেখায় একটি জনপ্রিয় ধারার সংকেত নিয়ে তাকে অন্য অর্থে ঘুরিয়ে দিন।
- শেষ বাক্যে দুই বিরোধী শব্দ পাশাপাশি বসিয়ে গল্পের রায় লিখুন।
Try it yourself
এমন এক চরিত্রের গল্প লিখুন যাকে সমাজ ভুল করে অন্য কিছু ধরে নিয়েছে, মৃত, অপরাধী, পাগল বা বিদেশি, আর যে ভুলটি ভাঙাতে যতই চেষ্টা করে ততই ভুলটি পাকা হয়। শেষ বাক্যে দুটি পরস্পরবিরোধী শব্দ পাশাপাশি রাখুন।
Questions
জীবিত ও মৃত গল্পের শেষ বাক্য কী?
কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই। পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে প্রমাণ করে যে সে জীবিত ছিল।
জীবিত ও মৃত গল্পের মূল বিষয় কী?
হিন্দু বিধবার সামাজিক মৃত্যু ও অন্ধবিশ্বাসের নিষ্ঠুরতা। জীবিত ও মৃতের সীমা এখানে শরীর নয়, সমাজ ঠিক করে।
কাদম্বিনী কি সত্যিই মরে গিয়েছিল?
না, তার হৃৎস্পন্দন সাময়িকভাবে থেমেছিল। শ্মশানে জেগে উঠে সে নিজেকে প্রেত ভাবে, যা তার সামাজিক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.