অভাগীর স্বর্গ (Abhagir Swarga) by Sarat Chandra Chattopadhyay: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: শরৎচন্দ্রের অভাগীর স্বর্গ (Abhagir Swarga) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, অভাগী ও কাঙালীর চরিত্র, জাতিভেদ ও মৃত্যুর অধিকারের বিষয়, খড়ের আগুনের শেষ এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
গ্রামের ব্রাহ্মণ-গৃহিণীর শ্মশানযাত্রা দেখতে দেখতে এক দুলে-রমণী ভাবে, চিতার ধোঁয়া রথের মতো আকাশে উঠে যাচ্ছে, তার নিজের মৃত্যুও যদি এমন হয়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অভাগীর স্বর্গ ১৯২৬ সালে হরিলক্ষ্মী গল্পগ্রন্থে প্রকাশিত। এক দরিদ্র নারীর শেষ ইচ্ছা, এক টুকরো কাঠ, আর তা না পাওয়ার গল্প।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
ঠাকুরদাস মুখুয্যের স্ত্রী মারা গেলে গ্রামে বিরাট শ্মশানযাত্রা হয়: চন্দনকাঠের চিতা জ্বলে, ছেলে মুখে আগুন দেয়। ভিড়ে দাঁড়িয়ে দেখে কাঙালীর মা, দুলে সম্প্রদায়ের নারী, যার নাম তার মা রেখেছিল অভাগী। স্বামী রসিক বাঘ তাকে ছেড়ে অন্য গ্রামে সংসার করেছে; পনেরো বছরের ছেলে কাঙালী তার সব। ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখে অভাগীর মনে গেঁথে যায়, ছেলে মুখে আগুন দিলে সে-ও রথে চড়ে স্বর্গে যাবে। কিছুদিন পরে সে জ্বরে পড়ে, আর বুঝে যায় এই অসুখ থেকে ওঠা নেই। কাঙালীকে সে নিজের শেষ ইচ্ছা বলে: চিতা, ছেলের হাতে আগুন।
কাঠ কোথায়। উঠানে একটি বেলগাছ আছে, কিন্তু জমি জমিদারের, গাছ কাটতে গোমস্তা অধর রায়ের অনুমতি লাগে। কাঙালী তাঁর কাছে যায়; গোমস্তা টাকা চায়, ছোট জাতের মেয়ের জন্য গাছ দেওয়ার প্রশ্নই নেই বলে তাড়িয়ে দেয়। রসিক বাঘ ফিরে আসে, অভাগী স্বামীর পায়ের ধুলো নেয়; রসিক গাছ কাটতে গেলে দরোয়ান তাকে মারে। কাঙালী ঠাকুরদাসের বাড়িতে যায় কাঠ ভিক্ষা করতে; সেখানেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভাগী মরে যায়। দুলেপাড়ার লোক তার দেহ নদীর ধারে নিয়ে গর্ত খোঁড়ে। কাঙালী এক মুঠো খড়ে আগুন ধরিয়ে মায়ের মুখে ছোঁয়ায়, তারপর মাটি দেওয়া হয়। অভাগীর স্বর্গের রথ খড়ের এক টুকরো ধোঁয়ায় শেষ হয়।
চরিত্র
এক মা, এক ছেলে, আর যারা কাঠ দেয় না।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: জাতিভেদের নিষ্ঠুরতা, দরিদ্রের মৃত্যুতেও সম্মানের অধিকার না থাকা, মাতৃত্ব, ধর্মীয় সংস্কারে দরিদ্রের বিশ্বাস। শিরোনামের বিদ্রুপ লিখবেন: অভাগীর স্বর্গ একটি চিতা, আর সেটিও তার হয় না। ধারালো পর্যবেক্ষণ: অভাগী যে স্বর্গ চায়, সেটি ব্রাহ্মণ সমাজের কল্পনা, যে সমাজ তাকে মানুষ গণ্য করে না। তার বিশ্বাস তার শোষকদের কাছ থেকে ধার করা, আর সেই শোষকরাই বিশ্বাসটি পূরণের কাঠ দিতে অস্বীকার করে। শরৎচন্দ্র এই দ্বৈত অত্যাচার দেখান: প্রথমে স্বপ্ন দাও, তারপর স্বপ্নের উপকরণ কেড়ে নাও। খড়ের আগুন তাই পরাজয় নয়, কাঙালীর একমাত্র বিদ্রোহ।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
গল্পের শুরু ও শেষ দুটি শ্মশান, একটি চন্দনকাঠের, একটি খড়ের, আর মাঝখানের সবকিছু এই দুইয়ের দূরত্ব মাপা। এই আয়না-গঠন পরীক্ষার প্রশ্নে সরাসরি কাজে লাগে। মোড়টি গোমস্তার অস্বীকার, যেখানে অভাগীর স্বপ্নটি প্রথমবার নিয়মের দেয়ালে ধাক্কা খায়। শেখার বিষয়: একটি সামান্য বস্তু, কাঠ, গল্পের কেন্দ্রে বসিয়ে গোটা সমাজব্যবস্থাকে তার চারপাশে ঘোরানো। কাঙালী কাঠ চাইছে, আর প্রত্যেক অস্বীকারে একটি করে প্রতিষ্ঠান নিজেকে প্রকাশ করছে। Writory-র ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় যে গল্প একটি বস্তুকে এভাবে সামাজিক আয়না বানাতে পারে, তা বিষয়বস্তুর নম্বরে আলাদা করে ধরা পড়ে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় দুই শ্মশানের আয়না-গঠন লিখুন, চন্দন বনাম খড়।
- শিরোনামের বিদ্রুপ ও ধার করা স্বপ্নের কথা ব্যাখ্যা করুন।
- প্রত্যেক অস্বীকারকে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ হিসেবে দেখান।
- নিজের গল্পে একটি সামান্য বস্তুকে কেন্দ্রে রেখে সমাজ ঘোরান।
- পরাজয়ের ভিতরে একটি ছোট বিদ্রোহের চিহ্ন রাখুন, খড়ের আগুনের মতো।
Try it yourself
এমন এক মানুষের গল্প লিখুন যার শেষ ইচ্ছা একটি সামান্য বস্তুর ওপর নির্ভর করে, এক টুকরো কাঠ, একটি ছবি, একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কবর। তার প্রিয়জন সেই বস্তু চাইতে চারটি দরজায় যাক, আর প্রত্যেক দরজা আলাদা কারণে না বলুক। শেষে একটি অসম্পূর্ণ বিকল্প দিয়ে ইচ্ছাটি রক্ষা হোক।
Questions
অভাগীর স্বর্গ গল্পের শেষে কী হয়?
কাঠ না পেয়ে দুলেরা অভাগীর দেহ নদীর ধারে গর্তে পোঁতে। তার আগে কাঙালী এক মুঠো খড়ে আগুন ধরিয়ে মায়ের মুখে ছোঁয়ায়, মায়ের মুখাগ্নির ইচ্ছার শেষ চিহ্ন।
অভাগীর স্বর্গ গল্পের মূল বিষয় কী?
জাতিভেদের নিষ্ঠুরতা ও দরিদ্রের মৃত্যুতেও সম্মানের অধিকার না থাকা। অভাগীর স্বর্গের স্বপ্ন শোষক সমাজ থেকে ধার করা, আর সেই সমাজই তা পূরণের কাঠ দেয় না।
অভাগী নামের অর্থ কী?
ভাগ্যহীনা। মা এই নাম রেখেছিল, আর গল্পে নামটি তার জীবন ও মৃত্যু দুটোকেই বর্ণনা করে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.