দেনাপাওনা (Denapaona) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের দেনাপাওনা (Denapaona) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, নিরুপমা ও রামসুন্দরের চরিত্র, পণপ্রথার বিষয়, শেষ লাইনের বিদ্রুপ ও পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
পাঁচ ছেলের পরে এক মেয়ে জন্মালে বাবা তার নাম দেন নিরুপমা, যার তুলনা নেই, আর তারপর বিয়ের বাজারে সেই মেয়ের দাম ধার্য হয় দশ হাজার টাকা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেনাপাওনা প্রকাশিত হয় হিতবাদী পত্রিকায়, ১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯১)। পণপ্রথার বিরুদ্ধে লেখা এই গল্পের শক্তি কান্নায় নয়, হিসাবের খাতার শুকনো ভাষায়।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
রামসুন্দর মিত্র মেয়ে নিরুপমার বিয়ে ঠিক করেন এক রায়বাহাদুরের ছেলের সঙ্গে। পণ দশ হাজার টাকা ও প্রচুর দানসামগ্রী। ধার করে, জমি বেচে তিনি অনেকটা জোগাড় করেন, তবু বিয়ের দিনে টাকা কম পড়ে। বরের বাবা বিয়ে ভেঙে দিতে চান; বর নিজে জেদ করে বলে, সে এই মেয়েকেই বিয়ে করবে। বিয়ে হয়, কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে নিরুপমার মূল্য ঠিক হয়ে যায় বাকি টাকায়। শাশুড়ি খোঁটা দেন, বাবার দারিদ্র্য নিয়ে বিদ্রুপ চলে, খাওয়া-পরায় অনাদর। রামসুন্দর মেয়েকে দেখতে গেলে অপমানিত হন, মেয়েকে বাড়ি আনার অনুমতি পান না।
রামসুন্দর বাকি টাকা জোগাড়ের চেষ্টায় পাগলের মতো ছোটেন। ছেলেদের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের বসতবাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা করে তিনি টাকা নিয়ে মেয়ের কাছে যান। নিরুপমা সব শুনে বাবাকে বলে, এই টাকা যদি দাও, তবে আমার অপমান; আমার কি কোনো দাম আছে যে টাকা দিয়ে মেটাতে হবে। সে বাবাকে টাকা দিতে বারণ করে। শ্বশুরবাড়ির লোক জানতে পেরে নিরুপমার ওপর রাগ আরও বাড়ে। অনাদর ও অসুখে নিরুপমা ক্ষয়ে যায়; চিকিৎসা হয় না, সে মারা যায়। তার শ্রাদ্ধ হয় বিরাট আয়োজনে, শ্বশুরবাড়ির মানরক্ষার জন্য। শেষ অনুচ্ছেদে লেখক জানান, রায়বাহাদুরের ছেলের আবার বিয়ে হচ্ছে, এবার পণ বিশ হাজার টাকা, হাতে হাতে আদায়।
চরিত্র
গল্পটি এক পরিবার বনাম এক প্রতিষ্ঠানের।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: পণপ্রথার নিষ্ঠুরতা, মেয়ের পণ্য হয়ে ওঠা, ভদ্র পরিবারের লোভ ও মানরক্ষার ভণ্ডামি। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পের একমাত্র সক্রিয় প্রতিবাদ নিরুপমার, আর সেটি তার মৃত্যুর কারণ। বাবার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সে নিজের মানুষ-মর্যাদা রক্ষা করে, কিন্তু সমাজ সেই মর্যাদাকে অবাধ্যতা ধরে শাস্তি দেয়। লেখক তাকে বীরত্বের আলো দেন না, শুধু দেখান যে এই ব্যবস্থায় মানুষ হয়ে বাঁচার একমাত্র উপায় ছিল মরা। শিরোনাম দেনাপাওনা তাই দুই অর্থে: টাকার হিসাব, আর মানুষের প্রাপ্য যা কেউ চোকায় না।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
মোড়টি নিরুপমার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া, গল্পের একমাত্র মুহূর্ত যেখানে সে কর্তা। তার আগে সে দৃশ্যের বস্তু, তার পরে সে শাস্তির লক্ষ্য। শেখার বিষয় স্বর: লেখক গোটা গল্প বলেন হিসাবরক্ষকের নিরাবেগ ভাষায়, টাকার অঙ্ক, দানসামগ্রীর তালিকা, শ্রাদ্ধের খরচ। শেষ লাইনে সেই ভাষা নিজেই রায় হয়ে ওঠে: বিশ হাজার টাকা, হাতে হাতে। প্রতিবাদের গল্প লিখতে চাইলে চিৎকার নয়, খাতার ভাষা ধার করুন।
পরীক্ষার জন্য
উত্তর ছোট, খাতায় সরাসরি লেখার মতো।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শেষ অনুচ্ছেদের বিদ্রুপ উদ্ধৃত করুন; প্রায় সব প্রশ্ন এখানে ঘোরে।
- শিরোনামের দুই অর্থ লিখুন: টাকার হিসাব ও মানুষের প্রাপ্য।
- শ্রাদ্ধের জাঁকজমক বনাম জীবিত বধূর অনাদর, এই বৈপরীত্য তুলুন।
- নিজের লেখায় প্রতিবাদের গল্প বলতে নিরাবেগ হিসাবের ভাষা ব্যবহার করুন।
- চরিত্রকে একটিমাত্র সক্রিয় মুহূর্ত দিন, আর সেটিই তার পরিণতি ঠিক করুক।
Try it yourself
এমন গল্প লিখুন যা পুরোটা হিসাবের ভাষায় বলা: অঙ্ক, তালিকা, রসিদ। আবেগ কোথাও সরাসরি লিখবেন না। শেষ লাইনে একটি সংখ্যা রাখুন যা আগের সব সংখ্যাকে নিষ্ঠুর করে দেয়।
Questions
দেনাপাওনা গল্পের শেষে কী হয়?
অনাদর ও রোগে নিরুপমা মারা যায়, শ্বশুরবাড়ি জাঁকজমকে শ্রাদ্ধ করে। শেষে জানা যায় তার স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে হচ্ছে, এবার বিশ হাজার টাকা পণ, হাতে হাতে আদায়।
দেনাপাওনা গল্পের মূল বিষয় কী?
পণপ্রথার নিষ্ঠুরতা ও মেয়ের পণ্য হয়ে ওঠা। নিরুপমার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া মানুষের মর্যাদার প্রতিবাদ, যার শাস্তি মৃত্যু।
দেনাপাওনা কখন প্রকাশিত হয়?
১২৯৮ বঙ্গাব্দে (১৮৯১) হিতবাদী পত্রিকায়, রবীন্দ্রনাথের প্রথম পর্বের ছোটগল্পগুলির একটি।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.