দৃষ্টিদান (Drishtidan) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিদান (Drishtidan) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কুমু, অবিনাশ ও হেমাঙ্গিনীর চরিত্র, অন্ধত্ব ও অন্তর্দৃষ্টির বিষয়, শিরোনামের অর্থ এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
চোখের অসুখে পড়া স্ত্রীকে তার ডাক্তারি-পড়া স্বামী নিজেই চিকিৎসা করতে চায়, অন্যের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে, আর স্ত্রী চিরকালের জন্য অন্ধ হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টিদান প্রকাশিত হয় ১৩০৫ বঙ্গাব্দে (১৮৯৮)। গল্পটি বলছে সেই অন্ধ স্ত্রী কুমু নিজে, আর শিরোনামের অর্থ শেষ পাতায় খোলে।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
কুমুর বিয়ে হয় অবিনাশের সঙ্গে, যে তখন ডাক্তারি পড়ছে। কুমুর চোখে অসুখ ধরলে অবিনাশ নিজেই চিকিৎসা শুরু করে; কুমুর দাদা, একজন পাশ করা ডাক্তার, বড়ো চিকিৎসক দেখাতে বললেও অবিনাশের আত্মবিশ্বাস ও অভিমানে তা হয় না। ভুল চিকিৎসায় কুমু দুই চোখের দৃষ্টি হারায়। অবিনাশ অনুশোচনায় স্ত্রীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে, কুমু তাকে ক্ষমা করে। কিন্তু অবিনাশ পাশ করে ডাক্তার হয়, পসার বাড়ে, বাইরের জগৎ তাকে টানে, আর অন্ধ স্ত্রী ক্রমশ তার জীবনের কেন্দ্র থেকে প্রান্তে যায়।
অবিনাশের পিসিমা বাড়িতে এসে দ্বিতীয় বিয়ের ব্যবস্থা করেন; পাত্রী হেমাঙ্গিনী, এক তরুণী, পিসিমার সঙ্গে বাড়িতে আসে। কুমু ঘটনার আভাস পায়, অবিনাশ অস্বীকার করে, তবু কুমুর অন্ধ ইন্দ্রিয় সবই ধরে। হেমাঙ্গিনী কুমুকে ভালোবেসে ফেলে, দিদি বলে, আর অন্ধ দিদির স্বামীকে বিয়ের কথা জেনে ঘৃণায় ফেটে পড়ে। অবিনাশ কাজের অজুহাতে অন্য শহরে যায়, সেখানে বিয়ের আয়োজন হবে। কিন্তু হেমাঙ্গিনী তার আগেই সরে পড়ে। কিছুদিন পরে কুমুর দাদা হেমাঙ্গিনীকে নিয়ে আসে: দুজনের বিয়ে হয়েছে। অবিনাশ লজ্জায় মাথা তুলতে পারে না। কুমু তাকে ক্ষমা করে, বলে সে সব দেখেছে, চোখ ছাড়াই। অন্ধত্ব তাকে যে অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে, সেটিই তার দৃষ্টিদান, আর সেই দৃষ্টিতে সে স্বামীর দুর্বলতা দেখে তবু তাকে গ্রহণ করে।
চরিত্র
এক অন্ধ কথক, তার দুর্বল স্বামী, আর একটি সাহসী তরুণী।
- কুমু: কথক, অন্ধ হয়ে দেখতে শেখে; ক্ষমা তার শক্তি, করুণা নয়।
- অবিনাশ: প্রেমিক, অপরাধী, সেবক, আবার অপরাধী; দুর্বল, তবু ঘৃণ্য নয়।
- হেমাঙ্গিনী: তরুণী, স্পষ্টবাদী, অন্যায়ে রাজি না হওয়া মেয়ে।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: অন্ধত্ব ও অন্তর্দৃষ্টি, পুরুষের অহংকার ও দুর্বলতা, নারীর ক্ষমা, সহবিবাহের বিরুদ্ধে নারীর সংহতি। শিরোনামের ব্যাখ্যা অবশ্যই লিখবেন। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পে অবিনাশ দুবার অপরাধ করে, একবার আত্মবিশ্বাসে, একবার দুর্বলতায়, আর কুমু দুবার ক্ষমা করে, কিন্তু দুই ক্ষমা এক নয়। প্রথম ক্ষমা ভালোবাসার, দ্বিতীয়টি জানার; দ্বিতীয়বার সে স্বামীকে ছোট দেখে গ্রহণ করে। লেখক নারীর ক্ষমাকে মহিমা দেন না, তাকে দৃষ্টি দেন; কুমু ক্ষমা করে কারণ সে দেখে, আর দেখে ফেলার পর ঘৃণা করাও তার কাছে অর্থহীন।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
অন্ধ কথক লেখকের সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকি ও সবচেয়ে বড়ো সুবিধা: দৃশ্য বর্ণনা নেই, তার বদলে শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ, পায়ের আওয়াজ, কণ্ঠের কাঁপা। পাঠক কুমুর মতো অনুমান করতে বাধ্য হয়, তাই অবিনাশের প্রত্যেক মিথ্যা পাঠক তার আগেই ধরে ফেলে। মোড়টি হেমাঙ্গিনীর কুমুকে ভালোবেসে ফেলা, যা পিসিমার পরিকল্পনাকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। শেখার বিষয়: চরিত্রের সীমাকে বর্ণনার নিয়ম করে তুলুন। কুমু দেখে না, তাই গল্পও দেখায় না, শোনায়। যে গল্প ইন্দ্রিয়ের একটি বন্ধ করে বাকিগুলি খুলে দেয়, Writory-র ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় ভাষা ও শৈলীর নম্বরে সে গল্প নিজে থেকেই আলাদা হয়ে যায়।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
- শব্দার্থ: দৃষ্টিদান (দৃষ্টি দেওয়া); অন্তর্দৃষ্টি (ভিতরের দেখা); পসার (ডাক্তারের রোগী ও আয়); অনুশোচনা (পস্তানো); সংহতি (একতা); অগ্রাহ্য (উপেক্ষা)।
- চরিত্রচিত্রণ, কুমু (৬০ শব্দে): কুমু গল্পের অন্ধ কথক, স্বামী অবিনাশের ভুল চিকিৎসায় দৃষ্টি হারানো তরুণী। প্রথম ক্ষমা তার ভালোবাসার; অন্ধত্বে তার শ্রবণ ও অনুভব তীক্ষ্ণ হয়, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের চক্রান্ত সে চোখ ছাড়াই ধরে। হেমাঙ্গিনীকে বোনের মতো ভালোবাসে। শেষে স্বামীর দুর্বলতা দেখে তবু গ্রহণ করে; এই দেখা তার দৃষ্টিদান। ক্ষমাশীল, কিন্তু অন্ধ নয়।
- প্রশ্ন: শিরোনামের অর্থ কী? উত্তর: চোখ হারিয়ে কুমু অন্তর্দৃষ্টি পায়, স্বামীকে ও সংসারকে সত্যরূপে দেখে। অন্ধত্বই তার দৃষ্টিদান।
- প্রশ্ন: হেমাঙ্গিনীর ভূমিকা কী? উত্তর: সে পিসিমার পরিকল্পনা ভেঙে দেয়, অন্ধ দিদির স্বামীকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে কুমুর দাদাকে বিয়ে করে।
- প্রশ্ন: দুই ক্ষমা কীভাবে আলাদা? উত্তর: প্রথম ভালোবাসায়, দ্বিতীয় জেনে। দ্বিতীয়বার কুমু স্বামীকে ছোট দেখে গ্রহণ করে।
- সারাংশ (১০০ শব্দে): ডাক্তারি-পড়া অবিনাশ স্ত্রী কুমুর চোখের চিকিৎসা নিজে করে, কুমুর ডাক্তার দাদার পরামর্শ অগ্রাহ্য করে, আর কুমু অন্ধ হয়। অনুশোচনায় অবিনাশ স্ত্রীর সেবায় ডুবে যায়, কুমু ক্ষমা করে। ডাক্তার হিসেবে সফল হলে অবিনাশ দূরে সরে; পিসিমা দ্বিতীয় বিয়ের জন্য তরুণী হেমাঙ্গিনীকে আনেন। অন্ধ কুমু সব আভাস ধরে। হেমাঙ্গিনী কুমুকে দিদির মতো ভালোবাসে এবং চক্রান্তে ঘৃণায় অস্বীকার করে। অবিনাশ অন্য শহরে বিয়ের আয়োজন করে, কিন্তু হেমাঙ্গিনী কুমুর দাদাকে বিয়ে করে ফেরে। লজ্জিত অবিনাশকে কুমু ক্ষমা করে; অন্ধত্বে পাওয়া দৃষ্টিই তার দৃষ্টিদান।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শিরোনামের অর্থ শেষ পাতার উপলব্ধির সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন।
- দুই ক্ষমার পার্থক্য দেখান; এটি চরিত্র ও বিষয় দুই প্রশ্নেই কাজে লাগে।
- হেমাঙ্গিনীকে নারীর সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করুন।
- নিজের লেখায় কথকের একটি ইন্দ্রিয় বন্ধ করুন, বাকিগুলি দিয়ে বর্ণনা করুন।
- চরিত্রকে ক্ষমা করতে দিন জেনে, না জেনে নয়।
Try it yourself
এমন এক কথকের গল্প লিখুন যার একটি ইন্দ্রিয় নেই, আর যে অন্য ইন্দ্রিয় দিয়ে বাড়ির একটি গোপন চক্রান্ত ধরে ফেলে। কোনো দৃশ্য বর্ণনা করবেন না, শুধু শব্দ, স্পর্শ ও গন্ধ। শেষে কথক সত্য জেনে ক্ষমা করুক, আর সেই ক্ষমা যেন করুণা নয়, দৃষ্টি।
Questions
দৃষ্টিদান গল্পের শেষে কী হয়?
হেমাঙ্গিনী অবিনাশকে বিয়ে না করে কুমুর ডাক্তার দাদাকে বিয়ে করে ফেরে। লজ্জিত অবিনাশকে অন্ধ কুমু ক্ষমা করে, কারণ চোখ ছাড়াই সে সব দেখেছে; সেই অন্তর্দৃষ্টিই তার দৃষ্টিদান।
দৃষ্টিদান শিরোনামের অর্থ কী?
দৃষ্টি দেওয়া। কুমু চোখের দৃষ্টি হারিয়ে অন্তর্দৃষ্টি পায়, স্বামী ও সংসারকে সত্যরূপে দেখতে শেখে।
কুমু কীভাবে অন্ধ হয়?
ডাক্তারি-পড়া স্বামী অবিনাশ অভিমানে ও আত্মবিশ্বাসে নিজে চিকিৎসা করে, বড়ো চিকিৎসক দেখাতে অস্বীকার করে, আর ভুল চিকিৎসায় কুমুর দুই চোখ নষ্ট হয়।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 30 November. That first entry makes you a Writorian.