হৈমন্তী (Haimanti) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তী (Haimanti) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, হৈমন্তী ও কথকের চরিত্র, সত্যবাদিতা ও সংসারের নিষ্ঠুরতার বিষয়, দুর্বল কথকের শিল্প এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
পাহাড়ের খোলা হাওয়ায় বড়ো হওয়া সতেরো বছরের একটি মেয়ে কলকাতার ভদ্র সংসারে এসে একটিমাত্র অপরাধ করে: সে মিথ্যা বলতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হৈমন্তী প্রকাশিত হয় সবুজপত্র পত্রিকায়, ১৩২১ বঙ্গাব্দে (১৯১৪)। গল্পটি বলছে তার স্বামী, যে স্ত্রীকে ভালোবাসে এবং তাকে বাঁচাতে একটি আঙুলও তোলে না।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
কথকের বিয়ে হয় হৈমন্তীর সঙ্গে। মেয়ের বাবা গৌরীশঙ্কর পাহাড়ি অঞ্চলে চাকরি করেন, স্ত্রীবিয়োগের পর মেয়েকে নিজে হাতে শিক্ষা দিয়েছেন, খোলা আকাশের নীচে বড়ো করেছেন। বিয়ের সময় হৈমন্তীর বয়স সতেরো, তখনকার হিসাবে অনেক বেশি; শ্বশুরবাড়ি তা মেনে নেয় গৌরীশঙ্করের ধনের গুজবে। কথকের বাবা আশা করেন প্রচুর যৌতুক; গৌরীশঙ্কর যা দেন তা প্রত্যাশার চেয়ে কম, আর জানা যায় তিনি ধনী নন। সেদিন থেকে শ্বশুরবাড়িতে হৈমন্তীর দাম পড়ে যায়। তার দ্বিতীয় অপরাধ সত্যবাদিতা: বয়স জিজ্ঞাসা করলে সে সতেরো বলে, লোকের সামনে যা সত্যি তা-ই বলে, শাশুড়ির শেখানো মিথ্যা মুখে নেয় না। কথক তাকে ভালোবাসে, তবু সংসারের সামনে চুপ।
হৈমন্তী ক্রমশ শুকিয়ে যায়। গৌরীশঙ্কর মেয়েকে দেখতে এসে বোঝেন সব, মেয়েকে কিছুদিন পাহাড়ে নিয়ে যেতে চান; শ্বশুরবাড়ি অনুমতি দেয় না, কথকও বাবার কথার উপরে যেতে পারে না। হৈমন্তী কোনো অভিযোগ করে না, বাবাকে চিন্তা করতে বারণ করে। কথক মনে মনে স্বপ্ন দেখে স্ত্রীকে নিয়ে দূরে চলে যাওয়ার, কিন্তু সাহস হয় না। গল্পের শেষে হৈমন্তী রোগে ভেঙে পড়েছে, আর কথক স্বীকার করে, বাড়িতে তার দ্বিতীয় বিবাহের কথা উঠতে শুরু করেছে, হৈমন্তী তা জানে, তবু নীরব। মৃত্যু গল্পে ঘটে না, কিন্তু পাঠক জানে তা দরজায়।
চরিত্র
এক মেয়ে, তার বাবা, আর এক স্বামী যে সাক্ষী হয়ে থাকে।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: যৌতুকপ্রথা, বাল্যবিবাহের প্রত্যাশা, নারীশিক্ষা ও সংসারের সংঘাত, সত্যবাদিতার শাস্তি। এসব লিখবেন। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পটি শাশুড়ির নিষ্ঠুরতা নিয়ে যতটা, তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত পুরুষের দুর্বলতা নিয়ে। কথক নিজেকে আধুনিক ভাবে, বই পড়ে, স্ত্রীকে বোঝে, তারপরও যখন কাজ করার সময় আসে, বাবার আদেশ তার পক্ষে যথেষ্ট অজুহাত। লেখক এই কথককে খলনায়ক করেন না, তাকে স্বীকারোক্তি লিখতে দেন, আর সেই স্বীকারোক্তিই সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ। যে সমাজে ভালোবাসাও নীরব থাকে, সেখানে সত্যবাদী মেয়ের বাঁচার জায়গা নেই।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
মোড়টি গৌরীশঙ্করের আসা ও ফিরে যাওয়া। এটিই একমাত্র মুহূর্ত যখন হৈমন্তীকে বাঁচানো যেত, আর কথক তা হাতছাড়া করে। শেখার বিষয় কথকের নির্মাণ: প্রথম পুরুষে লেখা, স্মৃতিচারণের সুরে, বারবার নিজের দুর্বলতা স্বীকার করা। পাঠক তাকে ঘৃণা করতে পারে না, কারণ সে আগেই নিজেকে দোষী বলেছে, আর সেই কারণেই তার অপরাধ আরও স্পষ্ট। দুর্বল কথককে সৎ করে তুলুন, তার অপরাধ আপনাকে চিৎকার করে বলতে হবে না।
পরীক্ষার জন্য
উত্তর সংক্ষিপ্ত।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় কথকের দুর্বলতাকে গল্পের মূল অভিযোগ হিসেবে লিখুন, শাশুড়িকে নয়।
- সত্যবাদিতাকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর বিদ্রুপটি স্পষ্ট করুন।
- গৌরীশঙ্করের আসাকে হারানো সুযোগ ও মোড় হিসেবে চিহ্নিত করুন।
- নিজের লেখায় দুর্বল কথককে সৎ স্বীকারোক্তি দিন; পাঠক নিজেই রায় দেবে।
- মৃত্যু না দেখিয়ে তার নিশ্চয়তা ইঙ্গিতে রাখুন।
Try it yourself
এমন এক কথকের গল্প লিখুন যে কাউকে ভালোবাসে, তার প্রতি অন্যায় দেখে, বোঝে, আর কিছু করে না। কথক নিজেই বারবার নিজের দোষ স্বীকার করুক, কিন্তু একটিও কাজ না করুক। শেষটি হোক একটি অলিখিত ক্ষতির আগের মুহূর্ত।
Questions
হৈমন্তী গল্পের শেষে কী হয়?
হৈমন্তী রোগে ক্ষয়ে যাচ্ছে, বাবা তাকে নিয়ে যেতে চেয়েও পারেননি, আর কথক স্বীকার করে বাড়িতে তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা উঠেছে। মৃত্যু লেখা হয় না, তবু পাঠক তা বুঝে যায়।
হৈমন্তী গল্পের মূল বিষয় কী?
যৌতুক ও বাল্যবিবাহের প্রত্যাশায় গড়া সংসারে একটি সত্যবাদী, শিক্ষিত মেয়ের অনাদর, আর তাকে ভালোবাসা শিক্ষিত স্বামীর নিষ্ক্রিয়তা।
হৈমন্তী কেন সংসারে অপ্রিয় হয়?
তার বয়স সতেরো, বাবার ধন গুজবমাত্র, আর সে মিথ্যা বলতে পারে না। তিনটিই ভদ্র সংসারের চোখে দোষ।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.