ক্ষুধিত পাষাণ (Kshudhita Pashan) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণ (Kshudhita Pashan) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, বরিচের প্রাসাদ, মেহের আলি, অতীতের ক্ষুধার বিষয়, অসমাপ্ত শেষের শিল্প ও পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
রেলগাড়ির অপেক্ষায় এক স্টেশনে বসে দুই যাত্রী এমন এক সহযাত্রীর সঙ্গে জোটেন যার প্রত্যেক কথায় ফারসি কবিতা ও অলৌকিক অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণ প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায়, ১৩০২ বঙ্গাব্দে (১৮৯৫)। বাংলা অলৌকিক গল্পের মধ্যে এটি সবচেয়ে পঠিত, আর কারণ ভূত নয়, বর্ণনার সুর।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
কথক ও তাঁর থিওসফিস্ট আত্মীয় পুজোর ছুটি কাটিয়ে ফিরছেন। স্টেশনে এক বাকপটু অপরিচিত তাঁদের সঙ্গে জোটেন, ফারসি বয়েত আওড়ান, শেষে নিজের অভিজ্ঞতা বলতে শুরু করেন। যৌবনে তিনি হায়দরাবাদ নিজামের চাকরিতে বরিচ শহরে তুলার মাশুল আদায়ের কাজ পান। শুস্তা নদীর ধারে আড়াইশো বছরের পুরোনো এক শ্বেতপাথরের প্রাসাদ, বাদশা দ্বিতীয় মামুদের বিলাসভবন, তাঁর বাসা হয়। সন্ধ্যার আগে সব চাকর পালিয়ে যায়। প্রথম রাত থেকেই তিনি শোনেন অদৃশ্য পায়ের শব্দ, নদীর ঘাটে স্নান করতে নামা মেয়েদের হাসি, দেখেন এক ইরানি রমণী তাঁকে ইশারায় ডাকছে।
প্রতি রাতে তিনি অতীতের সেই জগতে ঢুকে পড়েন, মোগল পোশাক পরেন, আতরের গন্ধে ভাসেন, আর প্রতি সকালে অফিসের কেরানি হয়ে ফিরে আসেন। প্রাসাদের চারপাশে ঘোরে এক পাগল, মেহের আলি, যে চেঁচিয়ে বলে, তফাত যাও, সব ঝুট হ্যায়। ক্রমে তিনি বোঝেন প্রাসাদটি তার পুরোনো বাসিন্দাদের অতৃপ্ত কামনা নিয়ে জীবন্ত হয়ে থাকে, আর যে সেখানে আসে তাকেই গিলে খেতে চায়। এক রাতে তিনি প্রায় ধরা পড়েন; ভোরে মেহের আলির চিৎকার তাঁকে ফেরায়। কিছুদিন পরে তিনি বদলি নিয়ে পালান। ঠিক এই সময় ট্রেন এসে পড়ে, ভদ্রলোক অন্য কামরায় উঠে যান, আর কথক জানতেই পারেন না গল্পটির বাকি অংশ কী। তাঁর থিওসফিস্ট আত্মীয় রায় দেন, লোকটি বানিয়ে বলেছে। গল্প অসমাপ্তই থাকে।
চরিত্র
মানুষের চেয়ে বড়ো চরিত্র এখানে একটি বাড়ি।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: অতীতের অতৃপ্ত কামনা বর্তমানকে গ্রাস করে; ইতিহাস ও বিলাসের ধ্বংসাবশেষ জীবন্ত শক্তি; বাস্তব ও কল্পনার সীমা মুছে যাওয়া। শিরোনামের অর্থ লিখবেন: পাষাণ ক্ষুধার্ত, কারণ তার ভিতরে জমে থাকা বাসনার তৃপ্তি হয়নি। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পটি আসলে গল্প-বলা নিয়েই। কথক শোনেন এক অপরিচিতের মুখে, তার সত্যতা যাচাইয়ের উপায় নেই, আর ট্রেন গল্পটি মাঝপথে কেটে দেয়। লেখক ভূতের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন না, প্রমাণ করেন গল্পের ক্ষুধা: পাঠক বাকিটা জানতে চায়, যেমন প্রাসাদ নতুন মানুষ চায়।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
দুই স্তরের কাঠামো, স্টেশনের বর্তমান ও বরিচের অতীত, গল্পটিকে দুবার দূরে সরায়, আর সেই দূরত্বই অলৌকিককে বিশ্বাসযোগ্য করে। মোড়টি মেহের আলির প্রথম চিৎকার, যেখানে পাঠক বোঝে বিলাসের স্বপ্ন আসলে ফাঁদ। শেখার বিষয় দুটি। প্রথম, দিন ও রাতের কড়া বিভাজন: দিনের কেরানি, রাতের বাদশা, এই পুনরাবৃত্তি ভয়ের ছন্দ তৈরি করে। দ্বিতীয়, শেষ না করার সাহস। ট্রেন এসে গল্প কেটে দেওয়া কোনো অজুহাত নয়, নকশা; রহস্য ব্যাখ্যা করলে মরে যায়, অসমাপ্ত রাখলে পাঠকের মাথায় বেঁচে থাকে।
পরীক্ষার জন্য
উত্তর সংক্ষিপ্ত রাখা হয়েছে।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শিরোনামের অর্থ ও অসমাপ্ত শেষের কৌশল দুটিই লিখুন।
- দিন-রাতের বিভাজনকে গল্পের ছন্দ হিসেবে দেখান।
- মেহের আলির চিৎকারকে সতর্কবাণী ও মোড় হিসেবে উল্লেখ করুন।
- নিজের লেখায় অলৌকিককে দুই স্তরের কথকের আড়ালে রাখুন; দূরত্ব বিশ্বাস বাড়ায়।
- রহস্য শেষে ব্যাখ্যা করবেন না, কেটে দিন।
Try it yourself
এমন এক জায়গা নিয়ে গল্প লিখুন যা তার পুরোনো বাসিন্দাদের ইচ্ছা ধরে রেখেছে, একটি বন্ধ সিনেমা হল, পরিত্যক্ত রেলকোয়ার্টার বা কারখানার মেস। গল্পটি বলুক এক অপরিচিত, আর একটি বাহ্যিক বাধা এসে শেষটা শোনার আগেই তাকে চলে যেতে বাধ্য করুক।
Questions
ক্ষুধিত পাষাণ গল্পের শেষে কী হয়?
বক্তা প্রাসাদের গ্রাস থেকে বদলি নিয়ে পালান, কিন্তু ট্রেন এসে যাওয়ায় বাকি গল্প বলা হয় না। কথকের থিওসফিস্ট আত্মীয় বলেন সবটাই বানানো। গল্প অসমাপ্ত থেকে যায়।
মেহের আলি কে?
বরিচের প্রাসাদের চারপাশে ঘোরা পাগল, যে প্রাসাদের ক্ষুধার শিকার হয়ে বুদ্ধি হারিয়েছে। তার চিৎকার, তফাত যাও, সব ঝুট হ্যায়, গল্পের সতর্কবাণী।
ক্ষুধিত পাষাণের ইংরেজি নাম কী?
The Hungry Stones। ইংরেজি পাতাটি এই লাইব্রেরিতে আলাদা আছে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.