মহেশ (Mahesh) by Sarat Chandra Chattopadhyay: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: শরৎচন্দ্রের মহেশ (Mahesh) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, গফুর, আমিনা ও মহেশের চরিত্র, দারিদ্র্য ও ধর্মের ভণ্ডামির বিষয়, শেষের প্রার্থনা এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
জ্যৈষ্ঠের খরায় কাশীপুর গ্রামে ঘাস নেই, জল নেই, আর এক দরিদ্র তাঁতির উঠানে বাঁধা তার বুড়ো বলদ মহেশ ক্ষুধায় ডাকে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মহেশ প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে, হরিলক্ষ্মী গল্পগ্রন্থে। শেষ অনুচ্ছেদের প্রার্থনা বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে উদ্ধৃত অংশগুলির একটি।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
গফুর জোলা কাশীপুর গ্রামের দরিদ্র মুসলমান তাঁতি, দশ বছরের মেয়ে আমিনা ও বুড়ো বলদ মহেশ নিয়ে তার সংসার। জমিদার শিবচরণবাবুর খাজনা বাকি, ফসল হয়নি, ঘরে চাল নেই, মহেশের জন্য খড় নেই। মহেশ খিদের জ্বালায় দড়ি ছিঁড়ে গ্রামের তর্করত্ন ঠাকুরের বাগানে ঢোকে, ফসল খায়; তর্করত্ন গালাগাল করে, পাপ শোনায়, মহেশকে গোশালায় দিতে বলে। কাছারিতে তাকে মারধর করা হয়, মহেশ বেচার হুকুম হয়; তবু সে ছাড়ে না, মহেশ তার সন্তানের মতো।
জমিদারের পুকুরে নিচু জাতির জল নেওয়া বারণ, আমিনা দূরের পুকুর থেকে এক কলসি জল আনে। তেষ্টায় পাগল মহেশ ছুটে এসে কলসিতে মুখ দেয়, আমিনা পড়ে যায়, কলসি ভাঙে, দিনের একমাত্র জল মাটিতে গড়ায়। গফুর অন্ধ রাগে হাতের কাছে থাকা লাঙলের ফাল তুলে মহেশের মাথায় মারে। মহেশ পড়ে মরে যায়। তর্করত্ন গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত চায়, জমিদারের লোক জরিমানার হুমকি দেয়। সেই রাতে গফুর আমিনাকে নিয়ে গ্রাম ছাড়ে, ফুলবেড়ের চটকলে কাজ খুঁজতে। যাওয়ার সময় সে আকাশের দিকে মুখ তুলে বলে, আল্লাহ, আমাকে যত ইচ্ছা শাস্তি দাও, কিন্তু মহেশ তেষ্টায় মরেছে; যে তার ঘাসের জমি ও জল কেড়ে নিয়েছে, তার কসুর কখনও মাফ করো না।
চরিত্র
এক মানুষ, এক শিশু, এক পশু, আর তাদের ঘিরে একটি ব্যবস্থা।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: দারিদ্র্য ও জমিদারি শোষণ, ধর্মের নামে ভণ্ডামি, মানুষ ও পশুর সম্পর্ক, প্রকৃতির নির্মমতা। শেষের প্রার্থনাকে গল্পের বক্তব্য হিসেবে লিখবেন। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পে গোহত্যা করে একজন মুসলমান, আর গো-রক্ষার ধর্ম শোনায় যে ব্রাহ্মণ, সে-ই গরুটিকে খেতে দেয় না। শরৎচন্দ্র এই বিদ্রুপ চিৎকার করে বলেন না, ঘটনায় রাখেন। গফুরের প্রার্থনায় সে নিজের শাস্তি চায়, ক্ষমা চায় না; তার অভিযোগ মহেশের মৃত্যুতে নয়, মহেশের তেষ্টায়। পাপ কার, এই প্রশ্নটি গল্প পাঠকের হাতে দিয়ে যায়।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
গল্পটি একটি চাপের নকশা: খাজনা, খরা, তর্করত্ন, কাছারি, জল, প্রত্যেকটি গফুরের ওপর একটি করে পাক দেয়, আর লাঙলের ফাল ওঠার মুহূর্তে পাঠক জানে এটি রাগ নয়, ভাঙন। মোড়টি ভাঙা কলসি, একটি তুচ্ছ বস্তু, যা দিনের একমাত্র জল ও গফুরের শেষ ধৈর্য একসঙ্গে মাটিতে ফেলে। শেখার বিষয়: প্রতিবাদের গল্পে বক্তৃতা রাখবেন না, চাপ সাজান, তারপর একটি সামান্য বস্তু ভাঙুন। শেষের প্রার্থনা একমাত্র জায়গা যেখানে চরিত্র সরাসরি বলে, আর তা কাজ করে কারণ তার আগে সে শুধু সহ্য করেছে।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শেষ প্রার্থনাটি নিজের ভাষায় লিখে তার অভিযোগ ব্যাখ্যা করুন।
- ধর্মের ভণ্ডামির বিদ্রুপ উদাহরণ দিয়ে দেখান: গো-রক্ষার কথা বলা ব্রাহ্মণ ও গরুর খিদে।
- ভাঙা কলসিকে মোড় হিসেবে চিহ্নিত করুন।
- নিজের গল্পে চাপ সাজান, বক্তৃতা নয়; একটি সামান্য বস্তু ভেঙে বিস্ফোরণ ঘটান।
- চরিত্রকে সরাসরি কথা বলার একটিমাত্র জায়গা দিন, শেষে।
Try it yourself
এমন এক মানুষের গল্প লিখুন যার ওপর পাঁচটি আলাদা চাপ একসঙ্গে পড়ে, ঋণ, আবহাওয়া, নিয়ম, অপমান, অভাব। কোনো বক্তৃতা লিখবেন না। একটি তুচ্ছ বস্তু ভাঙার মুহূর্তে তাকে এমন কাজ করতে দিন যা সে নিজেই ক্ষমা করতে পারে না। শেষে তাকে একবার, শুধু একবার, সরাসরি কথা বলতে দিন।
Questions
মহেশ গল্পের শেষে কী হয়?
ভাঙা কলসির রাগে গফুর মহেশকে মেরে ফেলে। ব্রাহ্মণ প্রায়শ্চিত্ত ও জমিদার জরিমানা চাইলে সে রাতে আমিনাকে নিয়ে চটকলে কাজ খুঁজতে গ্রাম ছাড়ে, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে মহেশকে ঘাস-জল না দেওয়া মানুষদের ক্ষমা না করতে।
মহেশ গল্পের মূল বিষয় কী?
দারিদ্র্য ও জমিদারি শোষণ, ধর্মের নামে ভণ্ডামি, আর এক দরিদ্র মানুষ ও তার পশুর সম্পর্ক। পাপ কার, এই প্রশ্নই গল্পের কেন্দ্র।
মহেশ গল্পটি কখন প্রকাশিত হয়?
১৯২৬ সালে, শরৎচন্দ্রের হরিলক্ষ্মী গল্পগ্রন্থে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.