মণিহারা (Monihara) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের মণিহারা (Monihara) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, ফণিভূষণ ও মণিমালিকার চরিত্র, লোভ ও দাম্পত্যের বিষয়, দুই স্তরের কথকের শিল্প এবং শেষের চমক।
নদীর ধারে এক পরিত্যক্ত বাড়ির ভাঙা ঘাটে বসে এক স্কুলমাস্টার এক অচেনা শ্রোতাকে বাড়িটির ইতিহাস বলেন, আর গল্পের শেষে শ্রোতা এমন এক কথা বলেন যা গোটা গল্পকে উলটে দেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মণিহারা প্রকাশিত হয় ১৩০৫ বঙ্গাব্দে (১৮৯৮)। সত্যজিৎ রায় তিন কন্যা ছবিতে এটি চিত্রায়িত করেন।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
স্কুলমাস্টার বলেন: এই বাড়ি ছিল ফণিভূষণ সাহার, কাকার ব্যবসার উত্তরাধিকারী এক ধনী যুবকের। তার স্ত্রী মণিমালিকা সুন্দরী, নিঃসন্তান, আর গয়নার প্রতি তার আসক্তি প্রায় রোগ। ফণিভূষণ শিক্ষিত, ভদ্র, স্ত্রীকে গয়না দিয়ে ভরিয়ে দেয়; মণিমালিকা তা সিন্দুকে জমায়, বদলে কিছুই দেয় না। একদিন ব্যবসায় বড়ো ক্ষতি হয়, ফণিভূষণকে জরুরি টাকা জোগাড় করতে হয়। সে স্ত্রীর কাছে গয়না ধার চায়, ফিরিয়ে দেবে বলে। মণিমালিকা একটি কথাও না বলে অস্বীকার করে। ফণিভূষণ টাকার জন্য কলকাতায় যায়।
মণিমালিকার ভয়, স্বামী ফিরে জোর করে গয়না নেবে। সে তার দূর সম্পর্কের ভাই মধুসূদনকে ডেকে ঠিক করে, সমস্ত গয়না নিয়ে নৌকায় বাপের বাড়ি চলে যাবে। রাতে দুজন নৌকায় রওনা হয়। তারপর মণিমালিকাকে আর কেউ দেখে না; গয়নাও নয়; মধুসূদনও উধাও। ফণিভূষণ ফিরে খালি বাড়ি পায়। সে বাড়িতে একা থাকে, আর বর্ষার রাতে শোনে সিঁড়িতে মলের শব্দ, গয়নার ঝংকার। এক রাতে সে দেখে গয়নায় মোড়া একটি কঙ্কাল তার ঘরে ঢুকছে, হাতের হাড়ে বালা, খুলিতে সিঁথি। সে মণি বলে ডেকে তার পিছু নেয়। মাস্টার বলেন, সেই রাতের পরে ফণিভূষণকে জীবিত দেখা যায়নি। গল্প শেষ হলে শ্রোতা বলেন, গল্পটি মিথ্যা। মাস্টার কারণ জানতে চান। শ্রোতা বলেন, কারণ আমার নাম ফণিভূষণ সাহা। মাস্টার একটুও বিচলিত না হয়ে বলেন, তা জানি; আপনার স্ত্রীর নাম কী ছিল। শ্রোতা বলেন, নৃত্যকালী।
চরিত্র
ভিতরের গল্পে তিনজন, বাইরের গল্পে দুজন।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: লোভ ও দাম্পত্যহীন সম্পর্ক, নারীর গয়নাসক্তি, পুরুষের অতিরিক্ত কোমলতার পরিণতি, অলৌকিকের মাধ্যমে অপরাধবোধের ফেরত আসা। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গল্পের বিষয় আসলে গল্প-বলা ও বিশ্বাস। মণিমালিকা সত্যি নিষ্ঠুর ছিল, না মাস্টারের নারীবিদ্বেষ তাকে তেমন গড়েছে, লেখক বলেন না। শেষে শ্রোতা ফণিভূষণ বলে নিজেকে দাবি করলেও মাস্টার বিচলিত হন না, আর স্ত্রীর নাম নৃত্যকালী শুনেও গল্প ভাঙে না। প্রত্যেক গল্প যার বলে তার, শ্রোতার নয়; এই কথাটিই গল্পের গোপন বক্তব্য।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
দুই স্তরের গঠন এখানে সাজসজ্জা নয়, অর্থ। ভিতরের গল্পের মোড় গয়না ধার চাওয়ার দৃশ্য, যেখানে নীরব অস্বীকার সম্পর্কটির আসল রূপ খুলে দেয়। বাইরের গল্পের মোড় শেষ তিনটি সংলাপ, যা পাঠককে বলে দেয়, যে ভয় সে অনুভব করেছে তার ভিত্তি একটি বানানো গল্পও হতে পারে। শেখার বিষয়: ভূতের গল্পে ভূতের চেয়ে বেশি কাজ করে শব্দ, সিঁড়িতে মলের আওয়াজ, অন্ধকারে ঝংকার; আর শেষে একটি ছোট চমক পুরো গল্পের ওপর দ্বিতীয়বার পড়ার দাবি রাখে।
পরীক্ষার জন্য
সংক্ষিপ্ত উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় দুই স্তরের কথকের গঠন ও শেষের চমক দুটিই লিখুন।
- মণিমালিকার চরিত্র বিচারে বলুন এটি মাস্টারের চোখে দেখা; বাড়তি নম্বর।
- শিরোনামের দুই অর্থ উল্লেখ করুন।
- নিজের ভূতের গল্পে দর্শনের আগে শব্দ ব্যবহার করুন।
- শেষে এমন একটি সংলাপ রাখুন যা পাঠককে গল্পটি আবার পড়তে বাধ্য করে।
Try it yourself
এক অপরিচিত এক শ্রোতাকে একটি পরিত্যক্ত জায়গার ইতিহাস বলুক। গল্পের ভিতরে একটি জিনিসের প্রতি কারও আসক্তি থাকুক যা সম্পর্ক ধ্বংস করে। শেষে শ্রোতা এমন একটি কথা বলুক যা গল্পটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে চায়, আর বক্তা তাতে বিচলিত না হোক।
Questions
মণিহারা গল্পের শেষে কী হয়?
মাস্টারের গল্পে গয়নায় মোড়া কঙ্কালের পিছু নিয়ে ফণিভূষণ আর ফেরে না। তারপর শ্রোতা বলেন গল্প মিথ্যা কারণ তিনিই ফণিভূষণ; মাস্টার বিচলিত না হয়ে স্ত্রীর নাম জানতে চান, উত্তর আসে নৃত্যকালী।
মণিহারা গল্পের মূল বিষয় কী?
গয়নার লোভে দাম্পত্যের ধ্বংস ও অপরাধবোধের অলৌকিক ফেরত আসা, আর তার নীচে গল্প-বলা ও বিশ্বাসের প্রশ্ন।
তিন কন্যা ছবিতে মণিহারা কীভাবে দেখানো হয়েছে?
সত্যজিৎ রায়ের তিন কন্যা (১৯৬১) ছবির তিনটি অংশের একটি মণিহারা, দুই স্তরের কথকের গঠন ছবিতেও রাখা হয়েছে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.