প্রাগৈতিহাসিক (Pragoitihasik) by Manik Bandopadhyay: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক (Pragoitihasik) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, ভিখু, পাঁচী ও বসিরের চরিত্র, আদিম প্রবৃত্তির বিষয়, শেষের অন্ধকার এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
ডাকাতির রাতে কাঁধে বল্লমের ঘা খেয়ে এক ডাকাত জঙ্গলে লুকিয়ে থাকে, ক্ষতে পোকা ধরে, হাত পচে যায়, আর তবু তার ভিতরের ক্ষুধা এক ইঞ্চিও কমে না। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক ১৯৩৭ সালে একই নামের গল্পগ্রন্থে সংকলিত। এখানে কোনো চরিত্র ভালো নয়, কেউ শিক্ষা পায় না, আর লেখক একবারও চোখ সরান না।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
ভিখু ডাকাত। বৈকুণ্ঠ সাহার বাড়িতে ডাকাতির রাতে তার দলের সবাই ধরা পড়ে বা মরে, ভিখু কাঁধে বল্লমের ঘা নিয়ে পালায়। জঙ্গলে সে লুকিয়ে থাকে, পুরোনো সঙ্গী পেহ্লাদ গোপনে খাবার দেয়। ক্ষতে পোকা ধরে, তবু সে বাঁচে। সেরে উঠে পেহ্লাদের ঘরে আশ্রয় নিয়ে সে ঘরের মেয়েমানুষের দিকে হাত বাড়ায়; তাড়া খেয়ে প্রতিশোধে ঘরে আগুন দিয়ে পালায়। ডান হাত শুকিয়ে অকেজো হলে সে শহরের বাজারে ভিক্ষা করতে শুরু করে।
ভিক্ষুকদের মধ্যে সে দেখে পাঁচীকে, এক তরুণী ভিখারিনি, যার পায়ে একটি ঘা, যা সে ইচ্ছা করে সারায় না, কারণ ঘা-ই তার ভিক্ষার পুঁজি। পাঁচী থাকে বসিরের সঙ্গে, যে তাকে খাওয়ায় ও মারে। ভিখু পাঁচীকে চায়; পাঁচী প্রথমে হাসে, পরে টলে, তবু বসিরকে ছেড়ে আসার সাহস পায় না। এক রাতে ভিখু ভারী বাঁশের লাঠি নিয়ে ঘুমন্ত বসিরের মাথায় আঘাত করে তাকে মেরে ফেলে। পাঁচীকে নিয়ে সে অন্ধকার পথে বেরিয়ে পড়ে, নতুন শহরের দিকে। শেষ অনুচ্ছেদে লেখক বলেন, তারা যে অন্ধকার বহন করে চলেছে তা ইতিহাসের আগের, প্রাগৈতিহাসিক, আর তা তারা সন্তানের ভিতরে দিয়ে যাবে।
চরিত্র
তিনজন মানুষ, যাদের ভিতরে মানুষ হওয়ার আগের প্রাণী জেগে আছে।
- ভিখু: ডাকাত, পরে এক হাতের ভিখারি; ক্ষুধা, কাম ও হিংসা ছাড়া তার কোনো ভিতর নেই, আর সেই না-থাকাই লেখকের বিষয়।
- পাঁচী: ভিখারিনি, পায়ের ঘা-কে জীবিকা বানিয়েছে; বেছে নেয় যে তাকে বেশি দিতে পারে।
- বসির: দোহারা ভিখারি, পাঁচীর মালিক ও শিকার; ভিখুর লাঠির নীচে শেষ।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: মানুষের ভিতরে আদিম প্রবৃত্তির টিকে থাকা, দারিদ্র্য ও অপরাধের সম্পর্ক, সমাজের নীচের স্তরে নৈতিকতার অনুপস্থিতি, ফ্রয়েডীয় কামনা ও হিংসার চিত্র। শিরোনামের অর্থ লিখবেন: ইতিহাসের আগের মানুষ, যার আইন ক্ষুধা ও বেঁচে থাকা। ধারালো পর্যবেক্ষণ: লেখক ভিখুকে সমাজের শিকার হিসেবে দেখান না, দুঃখী ভিখারির করুণ ছবিও আঁকেন না। তিনি দেখান শরীরের জোর ও ক্ষুধার নিয়ম একটি সম্পূর্ণ জগৎ, যার নিজের যুক্তি আছে; ভিখু বসিরকে মারে যেমন প্রাণী প্রাণীকে মারে, অনুশোচনা ছাড়া। লেখকের নিস্পৃহতাই বলে দেয়, সভ্যতা কত পাতলা আস্তরণ।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
গল্পটি শরীর দিয়ে বলা: বল্লমের ক্ষত, পোকা, পচা হাত, পাঁচীর ঘা। প্রত্যেক ঘটনা শরীরের একটি অবস্থা থেকে জন্মায়। মোড়টি হাত শুকিয়ে যাওয়া: ডাকাত ভিখারি হয়, কিন্তু চরিত্র এক ইঞ্চি বদলায় না, আর সেই না-বদলানোই লেখকের বক্তব্য। শেখার বিষয়: চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া গল্প লেখা। সাধারণ নিয়ম বলে চরিত্র বদলাবে; মানিক দেখান, চরিত্র না বদলালে পাঠক বাধ্য হয় প্রশ্ন করতে, বদলানোর কথা ছিল কার। শেষ অনুচ্ছেদে লেখকের কণ্ঠ হঠাৎ ঘটনার উপরে উঠে রায় দেয়, বাংলা ছোটগল্পের সবচেয়ে বিতর্কিত শেষগুলির একটি।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
- শব্দার্থ: প্রাগৈতিহাসিক (ইতিহাসের আগের কালের); বল্লম (বর্শা); প্রবৃত্তি (সহজাত তাড়না); নিস্পৃহ (আবেগহীন, নিরাসক্ত); দোহারা (মাঝারি গড়নের); আস্তরণ (উপরের পাতলা স্তর)।
- চরিত্রচিত্রণ, ভিখু (৬০ শব্দে): ভিখু পেশাদার ডাকাত, ডাকাতির রাতে কাঁধে বল্লমের ঘা নিয়ে জঙ্গলে লুকায়। ক্ষত পচে ডান হাত অকেজো হলে সে শহরে ভিখারি হয়। আশ্রয়দাতা পেহ্লাদের ঘরে আগুন দেয়, ভিখারিনি পাঁচীকে পেতে তার সঙ্গী বসিরকে লাঠি দিয়ে মেরে ফেলে। অনুশোচনা, ভয় বা প্রেম তার নেই; ক্ষুধা, কাম ও হিংসাই তার সমগ্র সত্তা। আদিম ও অপরিবর্তনীয়।
- প্রশ্ন: শিরোনামের অর্থ কী? উত্তর: ভিখু ও পাঁচীর ভিতরে ইতিহাসের আগের আদিম মানুষ বেঁচে আছে, যার নিয়ম শুধু ক্ষুধা ও বেঁচে থাকা।
- প্রশ্ন: পাঁচী ঘা সারায় না কেন? উত্তর: ঘা তার ভিক্ষার পুঁজি। শরীরের ক্ষতই তার জীবিকা।
- প্রশ্ন: শেষ অনুচ্ছেদে লেখকের কণ্ঠ কেন? উত্তর: ঘটনার উপরে উঠে তিনি রায় দেন, এই অন্ধকার প্রজন্মে বাহিত হবে। গল্পকে ব্যক্তি থেকে মানবজাতিতে নেন।
- সারাংশ (১০০ শব্দে): ডাকাত ভিখু বৈকুণ্ঠ সাহার বাড়িতে ডাকাতির রাতে কাঁধে বল্লমের ঘা নিয়ে জঙ্গলে লুকায়; সঙ্গী পেহ্লাদ খাবার দেয়। সেরে উঠে পেহ্লাদের ঘরে আশ্রয় নিয়ে সে ঘরের মেয়েমানুষের দিকে হাত বাড়ায়, তাড়া খেয়ে ঘরে আগুন দিয়ে পালায়। হাত পচে অকেজো হলে সে শহরে ভিখারি হয়। সেখানে পায়ের ঘা-কে জীবিকা বানানো ভিখারিনি পাঁচীকে সে চায়; পাঁচী থাকে বসিরের সঙ্গে। এক রাতে ভিখু লাঠি দিয়ে ঘুমন্ত বসিরকে মেরে পাঁচীকে নিয়ে অন্ধকারে বেরিয়ে পড়ে। লেখক বলেন, তাদের বহন করা অন্ধকার প্রাগৈতিহাসিক, আর তা সন্তানে বাহিত হবে।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শিরোনামের অর্থ ও শেষ অনুচ্ছেদের লেখকের রায় দুটিই লিখুন।
- শরীরকেন্দ্রিক বর্ণনাকে গল্পের কৌশল হিসেবে দেখান: ক্ষত, পচা হাত, পাঁচীর ঘা।
- ভিখুর অপরিবর্তনীয়তাকে লেখকের বক্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করুন।
- নিজের লেখায় একবার চেষ্টা করুন চরিত্রকে না বদলিয়ে গল্প শেষ করার।
- নিস্পৃহ কথকের স্বর অনুশীলন করুন; করুণা না দেখিয়ে করুণা জাগানো যায়।
Try it yourself
এমন এক চরিত্রের গল্প লিখুন যার জীবনের অবস্থা সম্পূর্ণ বদলে যায়, পেশা, শহর, শরীর, কিন্তু যার ভিতরটা এক ইঞ্চিও বদলায় না। কথক করুণা দেখাবেন না, ব্যাখ্যাও দেবেন না, শুধু শরীর ও কাজ লিখুন। শেষ অনুচ্ছেদে একবার, শুধু একবার, ঘটনার উপরে উঠে একটি রায় দিন।
Questions
প্রাগৈতিহাসিক গল্পের শেষে কী হয়?
ভিখু ঘুমন্ত বসিরকে লাঠি দিয়ে মেরে পাঁচীকে নিয়ে অন্ধকার পথে নতুন শহরের দিকে বেরিয়ে পড়ে। লেখক শেষ অনুচ্ছেদে বলেন, তারা যে অন্ধকার বহন করছে তা প্রাগৈতিহাসিক, আর তা তাদের সন্তানে বাহিত হবে।
প্রাগৈতিহাসিক গল্পের মূল বিষয় কী?
মানুষের ভিতরে আদিম প্রবৃত্তির টিকে থাকা, দারিদ্র্যের নীচের স্তরে ক্ষুধা, কাম ও হিংসার নিয়ম, আর সভ্যতার আস্তরণ কত পাতলা তার নিস্পৃহ চিত্র।
প্রাগৈতিহাসিক কখন প্রকাশিত হয়?
১৯৩৭ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থে, লেখকের প্রথম পর্বের রচনা।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 30 November. That first entry makes you a Writorian.