শাস্তি (Shasti) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের শাস্তি (Shasti) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, চন্দরা ও ছিদামের চরিত্র, নারীর আত্মমর্যাদা ও বিচারের বিষয়, শেষ শব্দ মরণ এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
সারাদিন জমিদারের কাছারিতে বিনা মজুরিতে খেটে দুই ভাই ঘরে ফিরে দেখে ভাত নেই, আর কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি দা একজনের হাতে উঠে আসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাস্তি প্রকাশিত হয় সাধনা পত্রিকায়, ১৩০০ বঙ্গাব্দে (১৮৯৩)। নারীর আত্মমর্যাদার এই কঠিন গল্প শেষ হয় একটিমাত্র শব্দে।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
দুখিরাম রুই ও ছিদাম রুই দুই ভাই, স্ত্রীরা রাধা ও চন্দরা। এক দিন দুই ভাই জমিদারের কাছারিতে জোর করে খাটানো হয়ে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত ফিরে দুখিরাম ভাত চায়। রাধা ঝাঁঝিয়ে বলে, চাল কোথায়, ভাত কোথা থেকে আসবে। অন্ধকার ঘরে, ক্ষুধা ও অপমানে, দুখিরাম হাতের দা রাধার মাথায় বসিয়ে দেয়। রাধা মরে যায়। ঠিক তখন পাড়ার রামলোচন এসে পড়ে। বিভ্রান্ত ছিদাম হঠাৎ বলে বসে, ছোটবউ বড়োবউকে মেরেছে। ছিদাম ভাবে, বউ গেলে বউ পাওয়া যায়, ভাই গেলে ভাই পাওয়া যায় না।
ছিদাম চন্দরাকে বোঝায়, আদালতে সে বলবে রাধা তাকে মারতে এলে আত্মরক্ষায় সে আঘাত করেছে, তাহলে শাস্তি কম হবে। চন্দরা স্তম্ভিত হয়ে শোনে। স্বামীর এই প্রস্তাব তার ভিতরে সবকিছু ভেঙে দেয়। আদালতে সে বলে, হ্যাঁ, সে-ই মেরেছে, ইচ্ছা করেই মেরেছে, কারণ রাধাকে তার সহ্য হত না। আত্মরক্ষার কথা সে বলে না, স্বামীর উপস্থিতি অস্বীকার করে। ছিদাম ভয়ে সত্য বলে ফেলে, দুখিরামও স্বীকার করে নিজেই খুন করেছে; বিচারক দুই ভাইয়ের কথাকে বউ বাঁচানোর মিথ্যা ধরেন। চন্দরার ফাঁসির হুকুম হয়। ফাঁসির আগে ডাক্তার জিজ্ঞাসা করেন কাউকে দেখতে চায় কি না; সে মাকে দেখতে চায়। বলা হয়, তার স্বামী দেখতে চায়। চন্দরা বলে, মরণ। গল্প এখানে শেষ।
চরিত্র
এক নারী, আর তার চারপাশে দুর্বল পুরুষ ও অন্ধ বিচার।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: দারিদ্র্য ও শোষণ (কাছারির বেগার), নারীর প্রাণের তুচ্ছতা, বিচারব্যবস্থার অন্ধতা, নারীর আত্মমর্যাদা। শিরোনামের অর্থ লিখবেন: শাস্তি চন্দরার নয়, ছিদামের; চন্দরা মরে স্বামীকে সারাজীবনের অপরাধবোধ দিয়ে যায়। ধারালো পর্যবেক্ষণ: চন্দরার স্বীকারোক্তি আত্মত্যাগ নয়, প্রত্যাখ্যান। যে স্বামী তাকে ভাইয়ের বদলে বিনিময়যোগ্য মনে করেছে, তার কাছে ফিরে যাওয়ার চেয়ে ফাঁসি তার কাছে কম অপমানের। শেষ শব্দ মরণ তাই স্বামীর প্রতি অভিশাপ ও নিজের বেছে নেওয়া পথ, দুটোই।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
মোড়টি খুন নয়, ছিদামের মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি বাক্য। সেখান থেকে গল্প একটি মিথ্যার যুক্তি অনুসরণ করে, আর প্রত্যেক চরিত্র সেই মিথ্যার ভিতরে নিজের আসল চেহারা দেখায়। শেখার বিষয় দুটি: প্রথম, বিপর্যয়টি লেখক ঘটান প্রথম কয়েক অনুচ্ছেদে, বাকি গল্প তার পরিণতি; দ্বিতীয়, শেষ শব্দ। মরণ গ্রামীণ বাংলায় ঝগড়ায় ছুড়ে দেওয়া হালকা গালি, কিন্তু ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলা হলে তার ওজন বদলে যায়। পরিচিত শব্দকে অপরিচিত জায়গায় বসানোই এখানে শিল্প, আর Writory-র প্রতিযোগিতায় এমন একটি শেষ শব্দ আবেগের নম্বর একাই তুলে দিতে পারে।
পরীক্ষার জন্য
উত্তর সংক্ষিপ্ত।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় শিরোনামের প্রশ্নে ছিদামের শাস্তির কথা লিখুন, শুধু ফাঁসি নয়।
- শেষ শব্দের দুই অর্থ, গালি ও অভিশাপ, স্পষ্ট করুন।
- কাছারির বেগারকে খুনের সামাজিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করুন।
- নিজের গল্পে বিপর্যয় প্রথমেই ঘটান, তারপর তার যুক্তি অনুসরণ করুন।
- পরিচিত মুখের কথাকে অপরিচিত মুহূর্তে বসিয়ে শেষ করুন।
Try it yourself
একটি মুখ ফসকে বলা মিথ্যা নিয়ে গল্প লিখুন যা প্রথম পৃষ্ঠায় বলা হয় এবং তারপর ফেরানো যায় না। প্রত্যেক চরিত্র মিথ্যাটিকে বাঁচাতে নিজের আসল চেহারা দেখাক। শেষ করুন একটি দৈনন্দিন কথায়, যা নতুন জায়গায় বসে অসহ্য হয়ে ওঠে।
Questions
শাস্তি গল্পের শেষে চন্দরা কী বলে?
ফাঁসির আগে স্বামী তাকে দেখতে চাইলে চন্দরা বলে, মরণ। এই একটি শব্দে সে স্বামীকে প্রত্যাখ্যান করে এবং গল্প শেষ হয়।
শাস্তি গল্পে শাস্তি কার?
চন্দরার ফাঁসি হয়, কিন্তু আসল শাস্তি ছিদামের, যে ভাইকে বাঁচাতে স্ত্রীকে বলি দিয়ে সারাজীবনের অপরাধবোধ পায়।
চন্দরা কেন মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেয়?
স্বামী তাকে ভাইয়ের বদলে বিনিময়যোগ্য ভেবেছে জেনে তার আত্মমর্যাদা আহত হয়। সেই স্বামীর ঘরে ফেরার চেয়ে মৃত্যু তার কাছে সম্মানের।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.