স্ত্রীর পত্র (Strir Patra) by Rabindranath Tagore: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: রবীন্দ্রনাথের স্ত্রীর পত্র (Strir Patra) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, মৃণাল ও বিন্দুর চরিত্র, নারীর আত্মমুক্তির বিষয়, চিঠির আকারের শিল্প এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
পনেরো বছরের বিবাহিত জীবনে যে মেয়ে স্বামীকে কখনও চিঠি লেখেনি, সে পুরীর সমুদ্রের ধারে বসে প্রথম চিঠিটি লেখে, আর জানায় সে ফিরবে না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রীর পত্র প্রকাশিত হয় সবুজপত্র পত্রিকায়, ১৩২১ বঙ্গাব্দে (১৯১৪)। গোটা গল্প একটি চিঠি, লেখিকা মৃণাল, এক ভদ্র পরিবারের মেজোবউ। বাংলা সাহিত্যে নারীর স্বাধীন কণ্ঠের প্রথম স্পষ্ট ঘোষণা।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
মৃণাল লিখছে শ্রীক্ষেত্র থেকে, তীর্থে এসে। সে জানায়, তাকে বিয়ে করা হয়েছিল রূপ দেখে; তার বুদ্ধি সংসারে অনাহূত অতিথি, যা সে গোপনে কবিতা লিখে বাঁচিয়ে রেখেছে। শ্বশুরবাড়ির গলিতে আলো-বাতাস কম, গোয়ালের গরুর মতো নারীদের স্থান নির্দিষ্ট। তার একটি মেয়ে জন্মে মারা যায়। তারপর বাড়িতে আসে বিন্দু, বড়োবউয়ের অনাথ ছোট বোন, যাকে তার নিজের আত্মীয়রা তাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই তাকে বোঝা মনে করে, খাওয়ার খোঁটা দেয়; মৃণাল একাই তাকে কাছে টানে, আর বিন্দু তাকে ভালোবেসে বাঁচার কারণ পায়। এই ভালোবাসাই বাড়ির চোখে অপরাধ।
বিন্দুকে তাড়াতে তার বিয়ে দেওয়া হয়, খোঁজ না নিয়েই। বর পাগল। বিন্দু পালিয়ে ফিরে আসে, মৃণাল তাকে আশ্রয় দিতে চায়, কিন্তু পরিবার তাকে জোর করে স্বামীর ঘরে পাঠায়; স্বামীর ঘর ছেড়ে পালানো মেয়ের জায়গা কোথাও নেই। মৃণাল পুরী যাওয়ার আয়োজনে বিন্দুকে সঙ্গে নেওয়ার ফন্দি করে। তার আগেই খবর আসে, বিন্দু কাপড়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বাড়ির মানুষ বিরক্ত হয়ে বলে, মেয়েমানুষের কাপড়ে আগুন দিয়ে মরা একটা ফ্যাশন হয়েছে। মৃণাল পুরীতে এসে সমুদ্রের সামনে বুঝে যায়, মাখন বড়ালের গলির বাইরেও পৃথিবী আছে। সে লেখে, সে আর ফিরবে না, মরবেও না, বাঁচবে। চিঠি শেষ হয় এই স্বাক্ষরে: তোমাদের চরণতলাশ্রয়ছিন্ন মৃণাল।
চরিত্র
চিঠি একজনের, কিন্তু কেন্দ্রে দুজন।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: পিতৃতান্ত্রিক সংসারে নারীর অবস্থান, অনাথ মেয়ের অসহায়তা, নারীর আত্মমর্যাদা ও মুক্তি। মৃণালের বাঁচার ঘোষণা মৃত্যুর বিপরীতে একটি প্রতিবাদ, এটি লিখবেন। ধারালো পর্যবেক্ষণ: মৃণালের মুক্তির চাবি বিন্দু, নিজের দুঃখ নয়। পনেরো বছরের নিজের অবমাননা সে সহ্য করেছে, বিন্দুর মৃত্যু সহ্য করতে পারে না। লেখক দেখান, নারী নিজের জন্য যে বিদ্রোহ করতে পারে না, অন্য এক অসহায় নারীর জন্য পারে। আর বিন্দুর মৃত্যুকে ফ্যাশন বলা বাক্যটিই আসল অভিযোগ: এই সংসার নারীর মৃত্যুতেও বিরক্ত হয়, শোকিত হয় না।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
চিঠির আকার এখানে সবচেয়ে বড়ো কৌশল, কারণ মৃণাল এমন সব কথা বলে যা মুখোমুখি কোনো ভদ্রঘরের বউ বলতে পারত না, আর পাঠক সেই স্বামীর জায়গায় বসে শোনে। মোড়টি বিন্দুর মৃত্যুর খবর, যেখানে চিঠির সুর অভিযোগ থেকে ঘোষণায় বদলে যায়। শেখার বিষয় সম্বোধনের ব্যবহার: মৃণাল স্বামীকে শ্রীচরণকমলেষু বলে শুরু করে, শেষ করে চরণতলাশ্রয়ছিন্ন হয়ে; সম্বোধনের এই যাত্রাই গল্পের যাত্রা। যে লেখক চিঠির প্রথম ও শেষ লাইন এমন করে বাঁধতে পারেন, প্রতিযোগিতার বিচারকের চোখে তাঁর গঠন আলাদা করে ধরা পড়ে।
পরীক্ষার জন্য
সংক্ষিপ্ত উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় সম্বোধন থেকে স্বাক্ষরের যাত্রাটি লিখুন; এটি গঠন ও বিষয় দুই প্রশ্নেই কাজে লাগে।
- বিন্দুকে মৃণালের মুক্তির উপলক্ষ হিসেবে ব্যাখ্যা করুন।
- ফ্যাশন কথাটির নিষ্ঠুরতা আলাদা করে উল্লেখ করুন।
- নিজের লেখায় চিঠির আকার ব্যবহার করুন যখন চরিত্র মুখোমুখি কিছু বলতে পারে না।
- প্রতিবাদের গল্পে প্রতিবাদী চরিত্রকে অন্য কারও দুঃখ দিয়ে জাগান, নিজের দুঃখ দিয়ে নয়।
Try it yourself
একটি চিঠি লিখুন এমন কারও কাছে যাকে লেখক পনেরো বছরে কোনোদিন সত্যি কথা বলেনি। চিঠিটি শুরু হোক প্রথাগত সম্বোধনে, আর শেষ হোক এমন এক স্বাক্ষরে যা সম্পর্কটিকেই বদলে দেয়। মাঝখানে একটি তৃতীয় মানুষের গল্প থাকুক, যার জন্যই এই চিঠি।
Questions
স্ত্রীর পত্র গল্পের শেষে কী হয়?
বিন্দুর আত্মহত্যার পর পুরীতে গিয়ে মৃণাল স্বামীকে চিঠিতে জানায়, সে মাখন বড়ালের গলিতে ফিরবে না; সে মরবে না, বাঁচবে। চিঠি শেষ হয় চরণতলাশ্রয়ছিন্ন মৃণাল স্বাক্ষরে।
স্ত্রীর পত্র গল্পের মূল বিষয় কী?
পিতৃতান্ত্রিক সংসারে নারীর অবমাননা ও এক নারীর আত্মমুক্তি। বিন্দুর মৃত্যু মৃণালকে দেখায় যে এই ঘর নারীর জীবন ও মৃত্যু দুটিকেই তুচ্ছ করে।
বিন্দু কে?
মৃণালের বড়ো জায়ের অনাথ ছোট বোন, যাকে সবাই বোঝা ভাবে। মৃণালের ভালোবাসা পেয়েও পাগল স্বামীর ঘরে ফেরত পাঠানো হলে সে আত্মহত্যা করে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.