তালনবমী (Talnabami) by Bibhutibhushan Bandyopadhyay: সারসংক্ষেপ, চরিত্র ও বিষয়
Quick answer: বিভূতিভূষণের তালনবমী (Talnabami) গল্পের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, গোপাল ও নেপালের চরিত্র, দারিদ্র্য ও শিশুর আশার বিষয়, না-আসা নিমন্ত্রণের শেষ এবং পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর।
ভাদ্রের ভোরে তালবাগানে পড়ে থাকা পাকা তাল কুড়িয়ে একটি ছেলে পিসিমার বাড়ি দিয়ে আসে, কারণ তালনবমীর দিন তাকে খেতে ডাকা হবে, এই আশায়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালনবমী গল্পটি একই নামের গল্পগ্রন্থে সংকলিত, ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত। অভাবের ভিতরে শিশুর অপেক্ষার এমন নির্মম ছবি বড়োদের গল্পেও কম।
গল্পের সারসংক্ষেপ, শেষ পর্যন্ত
গোপাল ও নেপাল দুই ভাই, বিধবা মায়ের সংসারে খাওয়া জোটে না রোজ। ভাদ্র মাস, ঘরে চাল বাড়ন্ত। গ্রামের সচ্ছল বিধবা জটি পিসিমার বাড়িতে তালনবমী ব্রত হবে, তালের বড়া, ক্ষীর, লুচি, ব্রাহ্মণভোজন। গোপাল শুনে আশায় ভরে ওঠে; পিসিমা একদিন বলেছিলেন, তালনবমীতে আসিস। সে রোজ ভোরে তালবাগানে যায়, শিশিরে ভেজা ঘাসে পড়ে থাকা পাকা তাল কুড়িয়ে পিসিমার বাড়ি দিয়ে আসে। পিসিমা তাল নেন, কিছু বলেন না। মা দুই ছেলের আশা দেখে চুপ থাকেন, বারণও করেন না, কারণ ঘরে খাবার নেই আর ছেলেরা একদিন পেট ভরে খেলে ক্ষতি কী।
তালনবমীর দিন আসে। গোপাল ভোর থেকে স্নান করে বসে থাকে, নেপালকেও তৈরি করে। বেলা বাড়ে, পিসিমার বাড়ি থেকে ভাজার গন্ধ আসে, লোক যাওয়া-আসা করে, কেউ তাদের ডাকতে আসে না। দুপুর গড়ায়। গোপাল পথের দিকে তাকিয়ে থাকে। মা তাকে ঘরে ডাকেন, সে খেতে চায় না, ঘরে যা আছে তা-ও খাবে না, নিমন্ত্রণ আসবে। সন্ধ্যা নামে। পিসিমার বাড়িতে আলো জ্বলে, ভোজনের শব্দ ভেসে আসে, আর গোপাল অন্ধকার দাওয়ায় বসে থাকে। নিমন্ত্রণ আসে না। গল্প শেষ হয় গোপালের সেই অপেক্ষায়, যা রাত পর্যন্ত থাকে, আর মায়ের নীরব দৃষ্টিতে, যিনি জানতেন।
চরিত্র
দুই শিশু, এক মা, এক পিসিমা।
বিষয় ও অর্থ
প্রচলিত ব্যাখ্যা: গ্রামীণ দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, শিশুর আশা ও বড়োদের উদাসীনতা, উৎসবের আনন্দ থেকে দরিদ্রের বাদ পড়া। ধারালো পর্যবেক্ষণ: গোপালের তাল কুড়িয়ে দেওয়া একটি ছোট্ট চুক্তি, শিশুর যুক্তিতে; আমি দিলাম, তুমি ডাকবে। গল্পের নিষ্ঠুরতা এই যে বড়োদের জগতে সেই চুক্তি কোনোদিন ছিল না। বিভূতিভূষণ দুই হিসাব পাশাপাশি রাখেন, একটিও মন্তব্য ছাড়া, আর মা, যিনি দুটোই বোঝেন, তাঁর নীরবতাই গল্পের বিচার।
গল্পের শিল্প: কোথায় মোড়, কী শেখার
গল্পে একটিও ঘটনা ঘটে না; যা ঘটে না, সেটিই গল্প। এই না-ঘটার গঠন সবচেয়ে কঠিন, কারণ লেখককে অপেক্ষাকে ঘটনার মতো টানটান রাখতে হয়। বিভূতিভূষণ সেটি করেন সময় দিয়ে: ভোর, বেলা, দুপুর, সন্ধ্যা, প্রত্যেক ঘণ্টায় গোপালের আশা একটু ছোট হয় ও একটু জেদি হয়। মোড়টি দুপুরের সেই মুহূর্ত, যেখানে গোপাল ঘরের খাবারও অস্বীকার করে; সেখান থেকে অপেক্ষা আশা নয়, অভিমান। শেখার বিষয়: ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুপস্থিতি বোঝানো। ভাজার গন্ধ, আলো, শব্দ, সব পিসিমার বাড়ি থেকে আসে, আর গোপাল সেগুলি পায়, খাবার পায় না। Writory-র ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় যে গল্প এমন করে না-ঘটাকে ঘটনা করে তুলতে পারে, তা গঠনের নম্বরে সবচেয়ে সাহসী হিসেবে গণ্য হয়।
পরীক্ষার জন্য
ছোট উত্তর।
What writers can take from this
- পরীক্ষায় না-ঘটার গঠন ও সময়ের ধাপ, ভোর থেকে সন্ধ্যা, লিখুন।
- গোপালের তাল দেওয়াকে শিশুর চুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করুন।
- মায়ের নীরবতাকে গল্পের বিচার হিসেবে দেখান।
- নিজের গল্পে গন্ধ, আলো ও শব্দ দিয়ে অনুপস্থিতি বোঝান।
- আশাকে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ছোট ও জেদি করুন; অপেক্ষাই ঘটনা হোক।
Try it yourself
এমন গল্প লিখুন যেখানে একটি প্রতিশ্রুত ঘটনা কখনও ঘটে না, একটি ফোন, একটি চিঠি, একটি নিমন্ত্রণ। গল্পটি এক দিনে বাঁধুন, ঘণ্টায় ঘণ্টায়। যার অপেক্ষা, সে আগে থেকে সেই ঘটনার জন্য কিছু দিয়েছে, তার নিজের হিসাবে। অন্য পক্ষকে নিষ্ঠুর করবেন না, উদাসীন রাখুন।
Questions
তালনবমী গল্পের শেষে কী হয়?
তালনবমীর দিন গোপাল ভোর থেকে সন্ধ্যা অপেক্ষা করে, কিন্তু জটি পিসিমার বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ আসে না। সন্ধ্যায় ভোজের আলো ও শব্দ ভেসে আসে, আর সে অন্ধকার দাওয়ায় বসে থাকে।
তালনবমী গল্পের মূল বিষয় কী?
গ্রামীণ দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, শিশুর আশা ও বড়োদের উদাসীনতা, আর উৎসবের আনন্দ থেকে দরিদ্রের বাদ পড়া।
তালনবমী কী?
ভাদ্র মাসের শুক্লা নবমীর ব্রত, যেদিন তালের বড়া ও তালের খাবার বানিয়ে খাওয়ানো হয়। গল্পের ভোজ এই ব্রত উপলক্ষে।
By the Writory editorial team, reviewed by working writers. Updated September 2026.
Enter a Writory story contest
Enter the Writory Short Story Contest and have your own story read and scored out of 100. Entries close 25 November. That first entry makes you a Writorian.